যশোর শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯:৩০ টার দিকে ৩৮ বছর বয়সী গ্রাম্য চিকিৎসক আল আমিনের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটেছে। আল আমিন, স্থানীয় রফিকুল ইসলামের পুত্র, তার চিকিৎসা সেবার জন্য পরিচিত ছিলেন।
সন্ধ্যা নামাজের পর বাড়ি ফেরার পথে আল আমিনের গাড়ি কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা বাধা দেয়া হয়। সূত্র অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে গাড়ির জানালায় গুলি করে, ফলে আল আমিনের গুরুতর আঘাত হয়।
আহত অবস্থায় আল আমিনকে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক দলের দ্রুত সাড়া সত্ত্বেও, তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশের পরিদর্শক শাহ আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যান।
মৃতদেহকে যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে অটোপসির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মর্গে গিয়ে মৃতদেহের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা হবে, যাতে গুলির সঠিক দিক ও গুলি করা অস্ত্রের ধরণ নির্ধারণ করা যায়।
পরিদর্শক শাহ আলমের মতে, হত্যার পেছনে কোনো স্পষ্ট প্রেরণা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা পুরনো শত্রুতার ফলে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
হত্যার সম্ভাব্য কারণ নির্ণয়ের জন্য পুলিশ দল গাতিপাড়া গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। সন্দেহভাজী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য বিশেষ অভিযান চালু করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষজন ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং আল আমিনের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, আল আমিন রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা প্রদান করতেন এবং তার মৃত্যু তাদের জন্য বড় ক্ষতি।
শার্শা থানার কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত চলাকালীন কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি এবং সব সূত্রের বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
অধিক তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশ গোপনীয়তা বজায় রেখে, সন্দেহভাজী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছে এবং তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো নতুন সূত্র পাওয়া মাত্রই তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আল আমিনের পরিবার এখন শোকময় অবস্থায় রয়েছে এবং তারা পুলিশকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সব ধরনের সহায়তা করবে।
স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এমন হিংসাত্মক অপরাধ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
হত্যার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের সনাক্তকরণে সময় লাগতে পারে, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, গাতিপাড়া গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল চালু করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।



