28 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকিকে বৈধ লক্ষ্য ঘোষণা

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকিকে বৈধ লক্ষ্য ঘোষণা

ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানীয় দূত আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলের সভাপতি ও সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব অ্যান্টোনিও গুটেরেসকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার বেস, সুবিধা ও সম্পদকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, তবে সেগুলো “বৈধ লক্ষ্য” হিসেবে গণ্য হবে। চিঠিটি AFP-র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

চিঠিতে ইরাভানি উল্লেখ করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বুধবারের সামাজিক মিডিয়া পোস্টে তিনি যুক্তরাজ্যের সামরিক বেস, বিশেষ করে ভারতীয় মহাসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত বেস, ব্যবহার করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছিলেন, যদি ইরান কোনো চুক্তি না করে। এই মন্তব্যকে ইরাভানি “আক্রমণাত্মক বক্তব্য” বলে বর্ণনা করে, যা অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ইরাভানি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে এবং এর ফলে অঞ্চলে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের সম্ভাবনা থাকে। তিনি সিকিউরিটি কাউন্সিলকে আহ্বান জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ সামরিক হুমকি অবিলম্বে বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, দেশটি এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথে অটল এবং পারস্পরিক ভিত্তিতে তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্টতা আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে ইরাভানি সতর্ক করেন যে, যদি ইরানকে সামরিক আগ্রাসনের মুখে দাঁড়াতে হয়, তবে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব বেস, সুবিধা ও সম্পদ প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে মার্কিন সরকার ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ রোধে মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনী, যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপটি ইরানের দাবি অনুযায়ী পারমাণবিক বোমা তৈরির ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পুনরায় জানিয়ে দিয়েছেন, যেখানে তিনি গত মাসে সরকারের বিরোধী প্রতিবাদকারীদের ওপর গৃহীত কঠোর দমন ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উভয়কে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানের কাছে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ দিনের সময় রয়েছে এবং তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালাতে পারে।

এই মন্তব্যের পরপরই জেনেভায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পর ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশ পায়। আলোচনায় পারমাণবিক চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, ইরানের এই সতর্কতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি উভয়ই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে অস্থির করতে পারে। যদি উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা না হয়, তবে অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলবে।

সিকিউরিটি কাউন্সিলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের চূড়ান্ত সতর্কতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উভয়ই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments