ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত গাজা পুনর্গঠন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠকে কাতার এক বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে বলে ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপটি গাজা অঞ্চলের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বক্তৃতা করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুররহমান বিন জাসিম আল থানি, যিনি কাতারের শান্তি ও মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গাজা পুনর্গঠন প্রকল্পে কাতার ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা প্রদান করেছে এবং এখন এই বৃহৎ আর্থিক দানটি পর্ষদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আল থানি বলেন, শান্তি পর্ষদ ২০ দফা পরিকল্পনা দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিকল্পনা গাজা অঞ্চলের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যা উভয় ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি জনগণের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বোর্ড ২০ দফা পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে, যাতে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা পায়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কাতার এক বিলিয়ন ডলার দানের মূল উদ্দেশ্য হল শান্তি পর্ষদের কাজকে আর্থিকভাবে সমর্থন করা, যাতে গাজা পুনর্গঠন ও চূড়ান্ত সমাধানের পথে অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। আল থানি বলেন, এই তহবিলটি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে সরাসরি ব্যবহার হবে, যা গাজা বাসিন্দাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
পূর্বে ১০ জানুয়ারি ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগের অংশ হিসেবে শান্তি পর্ষদ গঠনের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২৮০৩ অনুমোদন করে যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে বৈধতা প্রদান করা হয়। এই রেজুলেশনটি গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা সমন্বয়ের জন্য আইনি ভিত্তি স্থাপন করে।
শান্তি পর্ষদের দায়িত্বের মধ্যে গাজা অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় তদারকি, পুনর্গঠন কাজের সমন্বয়, আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং রূপান্তরকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহজতর করা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর মোতায়েন ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়াও এর কাজের অংশ।
কাতারের এই আর্থিক প্রতিশ্রুতি তার মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। পূর্বে কাতার বিভিন্ন সংঘাতময় অঞ্চলে মধ্যস্থতা ও পুনর্গঠন প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছে, এবং এই দানটি তার কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি গাজা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহ করবে।
শান্তি পর্ষদ এখন কাতারের এই এক বিলিয়ন ডলার দানকে কাজে লাগিয়ে গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করবে এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা ও স্বার্থের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের পথে অগ্রসর হবে। ভবিষ্যতে পর্ষদ নিয়মিতভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে, আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং গাজা বাসিন্দাদের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



