যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ (ডি.ও.জে.) সম্প্রতি প্রকাশ করা ইমেইলগুলোতে দেখা যায় যে, দোষী যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সঙ্গীত শিল্পের বড় সংস্থা ইএমআইতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে তার জার্মান ব্যবসায়ী সহযোগী ডেভিড স্টার্নের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এই চিঠিপত্রটি ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিনিময় হয় এবং ডি.ও.জে. এর চলমান অপরাধমূলক তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। স্টার্ন ইএমআইকে “পি” সম্পর্কিত শিল্প হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে এপস্টেইন “পি” শব্দটি নারীদের নির্দেশ করতে ব্যবহার করতেন।
ইমেইলগুলোতে স্টার্নের মেসেজে এপস্টেইনকে ইএমআইয়ের আর্থিক সমস্যার সংক্ষিপ্ত সংবাদ পাঠানো হয় এবং তিনি কোম্পানিটিকে “সমস্যাযুক্ত শিল্প, তবে পি” বলে বর্ণনা করেন। এপস্টেইন দ্রুতই এই প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং জিজ্ঞাসা করেন, “ম্যান্ডেলসনকে যুক্ত করা দরকার কি?” স্টার্নের উত্তরেও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য না দিয়ে কথোপকথন চলতে থাকে।
ডেভিড স্টার্ন লন্ডনে বসবাসকারী জার্মান ব্যবসায়ী, যিনি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন এবং প্রাক্তন রাজকুমারীর স্টার্ট‑আপ প্রতিযোগিতা “পিচ@প্যালেস” পরিচালনা করেছেন। তিনি মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের পক্ষ থেকে সারা ফারগুসনের আর্থিক সমস্যার সমাধানে মধ্যস্থতা করতেন এবং চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযোগ বজায় রাখেন। স্টার্নের এই সংযোগগুলো তাকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সম্ভাব্য দরজা খুলে দেয় বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
ইএমআই, যা এক সময় বিশ্ববিখ্যাত ইএমআই রেকর্ডসের মূলধারার অংশ ছিল, ২০১২ সালে ইউনিভার্সাল মিউজিকের অধীনে অধিগ্রহণের ফলে আর স্বাধীন সংস্থা হিসেবে কাজ করে না। ২০১০ সালে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দুর্বল ছিল, শেয়ারের মূল্য হ্রাস পেয়েছিল এবং বাজারে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল। স্টার্নের মেইলে এই তথ্যের উল্লেখ করা হয় এবং এপস্টেইনকে বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এপস্টেইন “পি” শব্দটি নারীদের জন্য ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়। স্টার্নের মেইলে জন্মদিন এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে তিনি “অনেক পি” লিখে এপস্টেইনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি এপস্টেইনকে চীনা ফ্যাশন শোতে টিকিট সরবরাহের প্রস্তাব দেন, যাতে তিনি “চীনা পি” পর্যালোচনা করতে পারেন। এই প্রস্তাবটি স্টার্নের চীনা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
স্টার্নের আরেকটি মেসেজে তিনি “পি ফ্যাক্টর” নামে একটি রেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানকে স্কোর দেন। উদাহরণস্বরূপ, স্প্যানিশ দ্বীপ ইবিজা-কে ৯/১০ এবং সারা ফারগুসনের ৫০তম জন্মদিনের পার্টিকে মাত্র ০.২/১০ স্কোর দিয়েছেন। এই রেটিংগুলো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে যুক্ত বলে অনুমান করা হয় এবং স্টার্নের নোটে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবে সংরক্ষিত ছিল।
ইএমআইতে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলাকালে, যুক্তরাজ্যের তখনকার ফার্স্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট এবং বিজনেস সেক্রেটারি লর্ড ম্যান্ডেলসনকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা স্টার্ন উল্লেখ করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ম্যান্ডেলসনকে এখনো যুক্ত করা “অনেক তাড়াতাড়ি” হতে পারে। ম্যান্ডেলসন তখন ব্যবসা ও শিল্প নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন, যা সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন তুলতে পারে। উভয়ই মন্তব্যের জন্য অনুরোধের উত্তর দেননি।
এই ইমেইলগুলো প্রকাশের পর ডি.ও.জে. এর ডকুমেন্ট ডাম্পে হাজার হাজার পৃষ্ঠার মধ্যে এই চিঠিপত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেন এবং তার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত তদন্তের সূচনা করেছে। তদন্তকারী সংস্থা এখন এপস্টেইনের সঙ্গীত শিল্পের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা এবং স্টার্নের চীনা সংযোগের প্রকৃত প্রভাব বিশ্লেষণ করছে।
প্রকাশিত নথিগুলোতে দেখা যায় যে, এপস্টেইন তার আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সঙ্গীত শিল্পের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতীয় রায় বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়নি, এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে।
মিডিয়া এবং আইনগত বিশ্লেষকরা ইএমআইয়ের আর্থিক অবস্থা, এপস্টেইনের বিনিয়োগের উদ্দেশ্য এবং স্টার্নের চীনা সংযোগের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তের ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে ডি.ও.জে. এর এই ডকুমেন্ট প্রকাশের ফলে এপস্টেইনের অতীত নেটওয়ার্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি হতে পারে।



