28 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সর্বশেষ হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি উন্মোচিত

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সর্বশেষ হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি উন্মোচিত

ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্য শান্তি সমিতির বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন চূড়ান্ত শর্ত প্রকাশ করেন। এই সমিতি ট্রাম্পের নিজস্ব উদ্যোগে গঠিত, যার লক্ষ্য অঞ্চলে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত রোধ করা। ট্রাম্পের ঘোষণায় ইরানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করলে সামরিক পদক্ষেপের সতর্কতা দেওয়া হয়।

শান্তি আহ্বান ও হুমকি একসঙ্গে জানানো ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার বৈদেশিক নীতির দ্বৈততা প্রকাশ করে। একদিকে তিনি কূটনৈতিক সমঝোতার পক্ষে জোর দেন, অন্যদিকে সামরিক হুমকি বাড়িয়ে তোলেন। এই বৈপরীত্যই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমান বিরোধ দ্রুত তীব্রতর হচ্ছে এবং এটি বছরের পর বছর না দেখা সবচেয়ে বড় মার্কিন বায়ু অভিযানকে সূচিত করতে পারে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে যদি ইরান শর্ত মেনে না চলে তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ব্যাপক আক্রমণ সম্ভাব্য।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রোগ্রাম শেষ করার জন্য কূটনৈতিক সমঝোতা পছন্দের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বুধবার ইরানকে “খুব বুদ্ধিমানের কাজ” হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষর করার পরামর্শ দেন। তবে এই কূটনৈতিক আহ্বান সত্ত্বেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রেটোরিক্সে ইরানের প্রতি কঠোর সুর দেখা যায়।

গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের ইরানবিরোধী বক্তব্য তীব্রতর হয়েছে এবং বিশ্লেষকরা এটিকে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সর্ববৃহৎ সামরিক মোতায়েন হিসেবে চিহ্নিত করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও সৈন্যবাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই করা হয়নি।

ট্রাম্পের হুমকি কেবল কথাবার্তা নয়, পূর্বে তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার কথাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালিয়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করে। সেই অভিযান সীমিত সামরিক লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল, তবে তা ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়নের ক্ষমতা দেখিয়েছে।

ইরানের ক্ষেত্রে একই ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর যুক্তি এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা সীমিত করা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে সরাসরি আক্রমণের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।

ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম বন্ধ করতে মার্কিন মিত্র দেশগুলিও একমত, যা ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধি রোধে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে।

অন্যদিকে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের নেতৃত্বে ব্যাপক প্রতিবাদে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সরকার এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ বিষয়ে আলোচনায় উন্মুক্ততা প্রকাশ করেছে।

ইরানের এই আলোচনার ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দরকষাকষির জন্য একটি সম্ভাব্য দরজা খুলে দিতে পারে, তবে ট্রাম্পের সামরিক হুমকি তা ব্যাহত করার ঝুঁকি বহন করে। উভয় পক্ষের অবস্থান যদি সমন্বয় না হয় তবে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে মার্কিন সরকারকে নতুন সামরিক পরিকল্পনা গঠন করতে হতে পারে, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বাস্তবায়িত হতে পারে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করবে।

পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাবে কিনা, অথবা সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়ে তোলার মাধ্যমে চাপ বাড়াবে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশের দিক নির্ধারণ করবে। বর্তমান অবস্থায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অস্থিরতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments