ইরানের একটি বিশেষ আদালত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ নাগরিক ক্রেগ এবং ফোরম্যানকে গুপ্তচরবৃত্তি অভিযোগে দশ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। রায়টি ইরানের বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হিসেবে ঘোষিত হয় এবং যুক্তরাজ্য সরকার তা তীব্রভাবে নিন্দা করেছে।
দম্পতি জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ইরানে আটক ছিলেন এবং তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর সন্দেহে অভিযোগ আনা হয়। পরিবার জানায়, উভয়ের বয়স পঞ্চাশের উপরে এবং তারা মোটরসাইকেলে বিশ্ব ভ্রমণকালে তেহরানে গ্রেপ্তার হন।
ক্রেগ ও ফোরম্যান উভয়ই তেহরানের গুপ্তচরবৃত্তি অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তাদের আইনগত দলও একই রকম অবস্থান গ্রহণ করেছে। দম্পতির পরিবার যুক্তি দেয়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
অভিযোগের বিচার অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত মাত্র তিন ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত শুনানির পর রায় দেয়। পরিবার দাবি করে, এই সময়ে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার রায়ের প্রতি “অত্যন্ত জঘন্য এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক” মন্তব্য করেন এবং ইরানের বিচারিক ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক নীতি ও মানবাধিকার রক্ষার গুরুত্ব জোর দেওয়া হয়েছে।
দম্পতির পুত্র জো বেনেট একটি প্রকাশ্যে জানায়, “তারা প্রথম দিন থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং আমরা কোনো প্রমাণ দেখিনি যা তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।” তিনি আরও যোগ করেন, পরিবারের জন্য এই রায় শোকের কারণ এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই রায়ের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অঞ্চলটিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের ইঙ্গিতও উঠে আসে। একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়, যা এই রায়ের রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইরানের এই কঠোর রায় যুক্তরাজ্য ও ইরানের বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এবং বিদ্যমান পারমাণবিক আলোচনার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তারা আরও সতর্ক করেন, যদি দুই দেশ এই বিষয়টি সমাধানে ব্যর্থ হয় তবে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে ইরানের রায়ের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবাধিকার ও ন্যায্য বিচারের দাবি জানাবে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে, ইরানের বিচারিক স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসন্ন মাসগুলোতে যুক্তরাজ্য সম্ভবত ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করবে, যার মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক ফোরামে রায়ের নিন্দা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। দম্পতির আইনগত দলও আপিলের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে, যা আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি উত্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি করে। এই ঘটনাটি ইরান-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



