ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে এই সপ্তাহান্তে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো নির্ধারিত হয়েছে। টটেনহ্যামের নতুন কোচ টুডরের অধীনে উত্তর লন্ডন ডার্বি, ম্যানচেস্টার সিটির গার্ডিয়োলে এরলিং হালান্ডের ভূমিকা এবং ওয়ির্টজের ফরেস্টের ওপর প্রভাবের সম্ভাবনা সবই নজরে থাকবে। এছাড়া অ্যাস্টন ভিলা লিডসের মুখোমুখি হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগের স্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।
টটেনহ্যাম টুডরের যুগে প্রবেশের সূচনা উত্তর লন্ডন ডার্বি দিয়ে করবে, যা ক্লাবের নতুন কৌশল ও আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। গার্ডিয়োলে গুইডো গার্ডিয়োলো এখনও এরলিং হালান্ডের ব্যবহার নিয়ে চিন্তিত, বিশেষ করে হালান্ডের শারীরিকতা ও গতি কীভাবে দলের সামগ্রিক গেমপ্লে পরিবর্তন করবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ওয়ির্টজের জন্য ফরেস্টের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসছে; তার সৃজনশীলতা ও গতি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে তিনি টিমের আক্রমণকে নতুন মাত্রা দিতে পারবেন। অন্যদিকে, অ্যাস্টন ভিলা বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা ও ইউরোপা লিগের শিরোপা লক্ষ্য করে চলেছে। লিডসের ঘরে খেলতে গিয়ে ভিলার জয় প্রত্যাশিত, যদিও উভয় দলে আক্রমণাত্মক চাপ বাড়বে।
ইউনাই এমেরির অধীনে অ্যাস্টন ভিলার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে চাপের মুহূর্তে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে; দলকে এখনই আক্রমণাত্মক মনোভাব গ্রহণ করতে হবে। এদিকে, ক্লাবের এফএ কাপ যাত্রা নিউক্যাসলকে পরাজিত করে শেষ হয়েছে, যেখানে মার্কো বিজটের অপ্রত্যাশিত ভুলের ফলে পঞ্চম রাউন্ডে অগ্রসর হওয়ার আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন দল লিগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
ব্রাইটনের বিরুদ্ধে অ্যাস্টন ভিলার জয়টি বেশ অগোছালো হলেও, দলের জন্য তা সন্তোষজনক ফলাফল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভিলা বাড়িতে ১০ জনের ব্রেন্টফোর্ডের কাছে এবং এভারটনের কাছে পরাজিত হয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পূর্বে ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে ড্রের পরেও ওলিভার গ্লাসনারের দল ভিলার জন্য একটি কঠিন বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
বিজট এই সপ্তাহে তার রক্তের প্রবাহের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আসন্ন লিডসের মুখোমুখি অ্যাস্টন ভিলার লাইনআপে কোন খেলোয়াড়টি সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাবে তা এখনই প্রশ্নের মুখে। ম্যাচটি শনিবার বিকাল ৩ টায় (GMT) নির্ধারিত, এবং ভিলার ভক্তরা বড় প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
ব্রেন্টফোর্ড এবং ব্রাইটনের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হলে, উভয় দলের মালিক মেথিউ বেনহাম ও টনি ব্লুমের পূর্বের সহকর্মীতা এই ধারণা তৈরি করেছিল যে ব্রেন্টফোর্ড ব্রাইটনের একটি জুনিয়র ক্লাব। তবে এই মৌসুমে বেনহাম দলের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ রাখছেন এবং তার কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টতই প্রভাব ফেলছে।
ব্রাইটনের কোচ কিথ অ্যান্ড্রুয়েজ বর্তমানে থমাস ফ্র্যাঙ্কের সর্বোচ্চ পয়েন্ট রেকর্ড অতিক্রমের পথে রয়েছে, যা দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে ক্লাবের সমর্থকরা ফ্যাবিয়ান হুরজেলারের ইন-গেম ম্যানেজমেন্ট ও সিলেকশন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক ট্রান্সফারগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ব্রাইটন বড় অর্থ দিয়ে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, মোইসেস কাইসেডো এবং জোয়াও পেদ্রোকে অর্জন করেছে, তবে এই বিনিয়োগগুলো দলের পারফরম্যান্সে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। ক্লাবের তরুণ প্রতিভা কার্লোস বালেবা, যাকে £১০০ মিলিয়ন মূল্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হয়, এখনও ৯০ মিনিটের পুরো ম্যাচ শেষ করতে পারছে না।
গত গ্রীষ্মে প্রায় £৯০ মিলিয়ন ব্যয় করে একটি তরুণ দল গঠন করা হয়েছিল, তবে তাদের অভিজ্ঞতার অভাব এখনও ফলাফলে প্রভাব ফেলছে। হুরজেলারের দল ৩ জানুয়ারি বার্নলির বিরুদ্ধে জয় অর্জন না করা পর্যন্ত শীর্ষ লিগে কোনো জয় পায়নি, এবং সেই জয়টি নভেম্বরের পর থেকে একমাত্র জয় হিসেবে রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, এই সপ্তাহান্তের প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচগুলো দলগুলোর বর্তমান ফর্ম, কোচের কৌশল এবং ট্রান্সফার নীতির প্রভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। ভিলার লিডসের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া, টটেনহ্যামের ডার্বি এবং ব্রাইটনের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা সবই ভক্তদের জন্য উত্তেজনা বাড়িয়ে দেবে।



