সপ্তাহের শেষের দিকে নরফোকের স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের প্রাঙ্গণে রাজকুমার অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসোরকে পাবলিক অফিসে দায়িত্ব লঙ্ঘনের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ০৮:০০ GMT-এ, যখন তিনি ৬৬তম জন্মদিন উদযাপন করছিলেন।
গ্রেপ্তার করার সময় তাকে স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের কাছাকাছি থেমস ভ্যালি পুলিশ দলটি থামিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তিনি অয়লশাম পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সন্ধ্যায় স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দেখা যায়। তদন্তের অধীনে তিনি মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
এই পদক্ষেপের পেছনে থেমস ভ্যালি পুলিশ একটি অভিযোগের পর্যালোচনা করছিল, যেখানে বলা হয়েছে যে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসোরের মাধ্যমে মৃত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে গোপনীয় নথি শেয়ার করা হয়েছে। রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি এ বিষয়ে সবসময়ই অস্বীকার করে আসছেন এবং কোনো অপরাধের স্বীকারোক্তি দেননি।
গ্রেপ্তার সম্পর্কে রাজার বা বাকিংহাম প্যালেসের কোনো পূর্বসচেতনতা ছিল না বলে জানা যায়। পুলিশ কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরণের পদক্ষেপের আগে উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না, তাই সংশ্লিষ্ট প্রোটোকল অনুসারে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে মিডিয়ায় উল্লেখিত অভিযোগগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: বাণিজ্যিক সফরের রিপোর্ট শেয়ার করা, আফগানিস্তানে বিনিয়োগ সংক্রান্ত গোপনীয় ব্রিফিং ফরোয়ার্ড করা, এবং ট্রেজারি বিভাগের একটি ব্রিফিং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক পরিচিতকে প্রদান করা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি পাবলিক অফিসে দায়িত্ব লঙ্ঘনের সন্দেহে আছেন।
পুলিশের একটি মুখ্য কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে থাকা তিন মিলিয়ন ডকুমেন্টের মধ্যে কিছু এখনও মিডিয়া নজরে আসেনি। তাই তদন্তে নতুন নথি বা ইমেইল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পূর্বে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে হতে পারে।
বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা থেমস ভ্যালি পুলিশের তদন্তকে সমর্থন করবে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশকে যোগাযোগের রেকর্ড বা অন্যান্য প্রমাণ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত থাকবে। এই সমর্থন নির্দেশ করে যে, ভবিষ্যতে প্যালেসের সঙ্গে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদান সম্পর্কিত অনুরোধ করা হতে পারে।
থেমস ভ্যালি পুলিশের সহকারী চিফ কনস্টেবল অলিভার রাইটের মতে, এই মামলাটি উচ্চ পর্যায়ের সংবেদনশীলতা বহন করে এবং তদন্তের পরিধি বিস্তৃত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, তদন্তের সময় গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অধিকার রক্ষা করা হবে।
বর্তমানে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসোরকে তদন্তের অধীনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি আরেকটি আদালতীয় শুনানির মুখোমুখি হতে পারেন। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা রাজপরিবারের অভ্যন্তরে গোপনীয় তথ্যের অপ্রকাশ এবং পাবলিক অফিসে দায়িত্ব লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে এক নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে কী ধরণের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কীভাবে রাজপরিবারের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



