ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ওয়াশিংটন ডি.সিতে অনুষ্ঠিত বোর্ড অফ পিস ইভেন্টে মেলানিয়া ট্রাম্পের নতুন ডকুমেন্টারির বক্স অফিস ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তার স্ত্রী এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নায়িকা। এই মন্তব্যটি ডকুমেন্টারির উদ্বোধন সপ্তাহের আর্থিক সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়।
ইভেন্টটি থিমেটিকভাবে শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পের চলচ্চিত্রকে “বড় সিনেমা তারকা” বলে প্রশংসা করেন এবং তার সাফল্যকে জাতীয় গর্বের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “সে এখন এক নম্বরের সিনেমা নিয়ে আছে, আপনি কি বিশ্বাস করতে পারেন?” তিনি এই কথায় মেলানিয়ার কাজের বাণিজ্যিক সাফল্যকে তুলে ধরেন। তার কথায় স্পষ্ট যে তিনি তার স্ত্রীর এই অর্জনকে ব্যক্তিগত গর্বের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
একই সময়ে তিনি একটি রসিক মন্তব্য করেন যে এক পরিবারে দুইজন তারকা থাকা সম্ভব নয়। “আমি তাকে বলেছি, এক পরিবারে দুইজন তারকা থাকতে পারে না,” তিনি বলেন, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এই মন্তব্যের অর্থ স্পষ্ট নয়। তবু তিনি মেলানিয়ার সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে শেষ করেন।
ডকুমেন্টারিটি ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পায় এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে ৬৭ শতাংশ আয় হ্রাসের পর ২.৪ মিলিয়ন ডলার অর্জন করে। এই সংখ্যা প্রথম সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস হলেও, চলচ্চিত্রটি দ্রুতই দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
চতুর্থ সপ্তাহে ডকুমেন্টারির মোট আয় ১৫.৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ডেবিউ হিসেবে রেকর্ড করে। এই আর্থিক ফলাফল মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রথম চলচ্চিত্রিক প্রচেষ্টার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রথম সপ্তাহের রেকর্ড সত্ত্বেও সমালোচকদের মতামত বিভক্ত। কিছু সমালোচক ডকুমেন্টারির বিষয়বস্তু ও নির্মাণকে প্রশংসা করেন, অন্যদিকে কিছু সমালোচক এটিকে অতিরিক্ত প্রচারমূলক হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে বক্স অফিসের সংখ্যা বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখায় যে দর্শকরা এই কাজের প্রতি আগ্রহী।
ডকুমেন্টারির পরিচালনা করেন ব্রেট রাটনার, আর প্রযোজনা ও বিতরণে কাজ করে অ্যামাজন এমজি এম স্টুডিওস। এই স্টুডিওগুলো বিশ্বব্যাপী লাইসেন্সিং অধিকার অর্জনে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে জানানো হয়েছে।
ফিল্মটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় শপথের আগে বিশ দিনকে কেন্দ্র করে তৈরি, যেখানে প্রথম লেডি হিসেবে তার ভূমিকা ও প্রস্তুতি দেখানো হয়েছে। এই সময়কালটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরিবর্তনের সংযোগস্থল হিসেবে চিত্রায়িত হয়েছে।
মেলানিয়া ট্রাম্পের মতে, এই ডকুমেন্টারিতে ব্যক্তিগত নাগরিক থেকে প্রথম লেডি হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের বিশদ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি প্রতিটি বিবরণে গর্ববোধ করি,” যা তার কাজের প্রতি নিবেদনকে প্রকাশ করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ প্রথম লেডিকে ভালোবাসে এবং সিনেমাটি ২০ বছরের মধ্যে সর্ববৃহৎ বিক্রিত ডকুমেন্টারি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, থিয়েটারগুলো পূর্ণ, বিশেষ করে মহিলারা একাধিকবার এই চলচ্চিত্রটি দেখতে ফিরে আসেন।
ডকুমেন্টারির স্ট্রিমিং তারিখ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি অ্যামাজন প্রাইমে উপলব্ধ হবে বলে জানানো হয়েছে। এই তথ্য অনুসারে, ভবিষ্যতে অনলাইন দর্শকদের জন্যও এই কাজটি সহজলভ্য হবে।



