ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত আটটায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সদর কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভের সময় টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় এবং দেয়ালের ইট ভেঙে দেয়।
বিক্রিত কার্যালয়টি ২৪শে গণ-অভ্যুত্থানের পর জনতা দ্বারা ধ্বংসের শিকার হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেই সময়ে শীঘ্রই সরকার পতনের পর জনসাধারণের হাতে গৃহটি ধ্বংস করা হয় এবং তখন থেকে কোনো দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস, জাতীয় নাগরিক দলের ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য মাসুদ রানা এবং জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্যসচিব তৌহিদ আহমেদ সহ অন্যান্য কর্মী।
আল নূর আয়াস জানান যে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করার খবর পেয়ে তারা গিয়ে ব্যানার ও স্টিকার সরিয়ে ফেলেছে, টায়ার জ্বালিয়ে গেটের তালা ভেঙে দেয় এবং পরে থানায় গিয়ে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
বিক্রিত ভবনে প্রবেশের পর অংশগ্রহণকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে অল্প সময়ের জন্য শিখা দেখায়, তবে তা দ্রুত নিভে যায়। কোনো বড় ধ্বংসক্ষতি রেকর্ড হয়নি এবং অগ্নি নির্বাপণ সংস্থার হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়নি।
স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, অগ্নিকাণ্ড স্বল্প সময়ের জন্য সীমিত ছিল এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিভে যাওয়ায় কোনো সম্পত্তি ক্ষতি হয়নি। তিনি যোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
বিক্ষোভের আগে, একই স্থানে নিষিদ্ধ দলটির কিছু নেতা ও কর্মী সকালের সময় ব্যানার টানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক দলের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক দল উভয়ই আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমকে অবৈধ বলে গণ্য করে এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের বিক্ষোভ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন নিষিদ্ধ দলগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন এখন ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
বিক্রিত কার্যালয়ের পুনরায় ব্যবহার বা পুনর্নির্মাণের প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অগ্রাধিকার পাবে না বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট দলগুলো আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে সমান ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।



