বেলারুশের প্রাক্তন বিরোধী রাজনীতিবিদ মিকোলা স্টাটকেভিচ, যিনি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত নির্বাসন প্রত্যাখ্যান করছিলেন, আজ মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছেন। ৬৯ বছর বয়সী স্টাটকেভিচের স্বামী-স্ত্রীর কাছ থেকে জানা যায়, তিনি সম্প্রতি স্ট্রোকের ফলে কথাবার্তায় সমস্যার সম্মুখীন, তবে বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তার স্ত্রী মারিনা আদামোভিচ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, “তিনি বাড়িতে আছেন এবং ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে, তবে তার কথা বলা এখনও কঠিন।”
স্টাটকেভিচ ২০২০-২১ সালে বেলারুশের সরকার কর্তৃক “বৃহৎ দাঙ্গা” আয়োজনের অভিযোগে ১৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং পাঁচ বছরের বেশি সময় জেলে কাটান। তিনি ২০১০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আলেকজান্ডার লুকাশেনকোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটে হেরেছিলেন। তার শাস্তি এবং দীর্ঘ কারাবাসের পরেও তিনি দেশ ছাড়তে অস্বীকার করেন, যা তাকে অন্যান্য ৫১ জন বন্দীর থেকে আলাদা করে।
মানবাধিকার সংস্থার মতে, বেলারুশে এখনও প্রায় এক হাজার রাজনৈতিক বন্দী কারাগারে রয়েছে। স্টাটকেভিচের মুক্তি এই সংখ্যার মধ্যে একটি ছোট পরিবর্তন হলেও, এটি দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। এক্স-এ পোস্টে শরণাপন্ন বেলারুশীয় নেতা স্বেতলানা টিখানোভস্কায়া প্রকাশ্যে আনন্দ প্রকাশ করেন, তিনি বলেন স্টাটকেভিচ এখন স্বাধীনভাবে তার স্ত্রীর আলিঙ্গন নিতে পারছেন, যিনি বহু বছর তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, “সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির জন্য লড়াই করা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যেককে মুক্ত করা পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা থামবে না।”
স্টাটকেভিচের মুক্তি ২০২২ সালে মার্কিন সরকার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে বেলারুশে ৫২ জন বন্দীর মুক্তির অংশ হিসেবে ঘটেছিল। সেই সময় লুকাশেনকোর সরকার নির্বাচনের পর ব্যাপক প্রতিবাদ দমন করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক নিন্দা পায়। অধিকাংশ বন্দী নির্বাসন স্বীকার করে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন, তবে স্টাটকেভিচ একমাত্র ছিলেন যিনি দেশ ছাড়তে অস্বীকার করেন।
বন্দী মুক্তির বিনিময়ে মার্কিন সরকার বেলাভিয়ার উপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি দেয়, যাতে এয়ারলাইনটি তার বিমান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে পারে। বেলারুশের রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে; রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রিক আক্রমণ চালায়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
লুকাশেনকো ১৯৯৪ সাল থেকে বেলারুশের শাসন বজায় রেখেছেন এবং দেশের সকল বিরোধী শক্তিকে দমন করে চলেছেন। তার শাসনামলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সমর্থকদের কাছ থেকে সমালোচনার মুখে। স্টাটকেভিচের মুক্তি, যদিও সীমিত, দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
বেলারুশের রাজনৈতিক বন্দীদের অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী উদ্যোগের পরেও, বাকি বন্দীদের মুক্তি এখনো অনিশ্চিত। মানবাধিকার সংস্থাগুলি দাবি করে, বেলারুশ সরকারকে অবিলম্বে সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
স্টাটকেভিচের স্বাস্থ্যের অবস্থা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ, তবে তার পরিবার ও সমর্থকরা আশাবাদী যে তিনি শীঘ্রই স্বাভাবিক কথোপকথনে ফিরে আসবেন। তার মুক্তি বেলারুশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিতে একটি ছোট পরিবর্তন হলেও, এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, শরণাপন্ন বিরোধী নেতাদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে, যারা দীর্ঘ সময়ের কারাবাসের পরেও দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান।
বেলারুশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার এখনও কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, তবে আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধী গোষ্ঠীর চাপে কিছু শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। স্টাটকেভিচের মতো উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তির মুক্তি এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
বেলারুশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ, অভ্যন্তরীণ বিরোধী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং সরকারী নীতি পরিবর্তনের উপর। স্টাটকেভিচের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি বাকি রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো, এই প্রক্রিয়ার মূল চাবিকাঠি হতে পারে।



