বিশ্বকাপ জয়ী জার্মান ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল এবং তুর্কি রাষ্ট্রপতির পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পর ঢাকা ফেরার পথে গাড়িবহর দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২ মিনিটে, কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে প্রস্থান করার সময়। কোনো দলের সদস্য আহত না হয়ে নিরাপদে সফর শেষ করতে সক্ষম হয়।
গাড়িবহরকে অনুসরণকারী একটি পুলিশ প্রোটোকল গাড়ি এবং একটি মোটরচালিত অটো রিকশার মধ্যে সংঘর্ষ ঘটায়। অটো রিকশা গাড়িবহরের সামনে হঠাৎ প্রবেশ করে, ফলে দুই যান টাকিয়ে যায়। দুর্ঘটনার ফলে অটো রিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চালককে হালকা আঘাতের শিকার হতে দেখা যায়।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারভাইজার অলক বিশ্বাস জানান, প্রতিনিধিদের কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি এবং তারা দ্রুত নিরাপদে কক্সবাজার ত্যাগ করে। তিনি উল্লেখ করেন, গাড়িবহরের সামনে থাকা অটো রিকশা ভিআইপি প্রোটোকল লঙ্ঘন করে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবেশ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
অটো রিকশার চালককে স্থানীয় চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং পরে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, চালকের আঘাত হালকা এবং তার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর অটো রিকশা জব্দ করা হয় এবং তা তদন্তের অধীনে রাখা হয়। গাড়িবহরের নিরাপত্তা দল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি সরিয়ে নেয় এবং প্রতিনিধিদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা কর্মীরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে।
কক্সবাজার জেলায় সফরের সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়। বিশেষ করে ভিআইপি গোষ্ঠীর চলাচল নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সি.ই.ডি. টিমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। দুর্ঘটনা সত্ত্বেও নিরাপত্তা দল দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়।
রাত ৮টা ২ মিনিটে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-ইলেকট্রিকের জন্য একটি বিশেষ বিমান ছেড়ে যায়। বিমানটি নিরাপদে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং প্রতিনিধিদের নিরাপদে হোস্টেল ও হোটেলে পৌঁছে দেয়া হয়। সফরের শেষ পর্যায়ে কোনো অতিরিক্ত ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
মেসুত ওজিল ও তুর্কি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা শিবিরে একাধিক কার্যক্রমে অংশ নেন। শিবিরের বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করে তারা শিবিরবাসীর সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানেন। দিনের বেলা তারা শিবিরের শিক্ষার্থী ও নারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ সহায়তা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বিকেলে ৪ নম্বর শিবিরে মেসুত ওজিল রোহিঙ্গা শিশু ও কিশোরদের সঙ্গে ফুটবল খেলা পরিচালনা করেন। খেলায় অংশগ্রহণকারী শিশুরা আনন্দে উল্লাস করে এবং তারকা খেলোয়াড়ের সঙ্গে মেলামেশা করে। এই মুহূর্তটি শিবিরের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে রয়ে যায়।
সন্ধ্যায় শিবিরে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রতিনিধিদল অংশ নেন। ইফতার শেষে তারা শিবিরের স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং মানবিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ইফতার সমাপ্তির পর তারা শিবির থেকে প্রস্থান করেন।
সফরের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর নিরাপত্তা দল গাড়িবহরকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিয়ে যায় এবং বিশেষ বিমানে ঢাকা যাত্রা সম্পন্ন হয়। গন্তব্যে পৌঁছে প্রতিনিধিদের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে জানানো হয়। কোনো শারীরিক ক্ষতি না থাকায় সফরটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার মূল কারণ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা রোধে প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করবে। মেসুত ওজিল ও তুর্কি প্রতিনিধিদল নিরাপদে দেশে ফিরে গিয়ে তাদের পরবর্তী কাজের প্রস্তুতি নেন।



