20 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দুইটি ক্যারিয়ার জাহাজের গমন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দুইটি ক্যারিয়ার জাহাজের গমন

মার্কিন সরকার ইরান সরকারের সামরিক প্রোগ্রাম ও সাম্প্রতিক প্রতিবাদ দমনকে কেন্দ্র করে চাপ বাড়িয়ে চলেছে। এ প্রেক্ষাপটে দুইটি মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যারিয়ার জাহাজ, ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকন, মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হওয়া নিশ্চিত হয়েছে। গেরাল্ড আর ফোর্ড বুধবার মরক্কোর আটলান্টিক তীরের কাছে তার অবস্থান প্রকাশের জন্য স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) চালু করে, এবং ৪৮ মিনিটের মধ্যে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাত্রা চালিয়ে যায়।

গেরাল্ড আর ফোর্ডের অবস্থান তথ্য ১২:৩০ GMT-এ প্রকাশিত হয় এবং ১৩:১৮ পর্যন্ত আপডেট থাকে, তবে গিব্রাল্টার স্ট্রেইট পার হওয়ার কোনো দৃশ্যমান রেকর্ড পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ক্যারিয়ার থেকে পরিচালিত একটি পরিবহন বিমান বুধবার স্পেনের কোনো বন্দরতে অবতরণ করে এবং বৃহস্পতিবার প্রায় ১৩:০০ GMT-এ আবার আটলান্টিকের দিকে ফিরে যাওয়ার চিহ্ন দেখা যায়।

মঙ্গলবার মার্কিন ও ইরান সরকারের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় রাউন্ডের আলোচনায় অংশ নেন, যেখানে কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানানো হয়। একই দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানান যে পরবর্তী দশ দিনের মধ্যে বিশ্ব জানবে মার্কিন সরকার ইরান সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে।

সপ্তাহের শুরুতে, স্যাটেলাইট চিত্রে ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকনকে ওমানের উপকূলের কাছাকাছি, ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে সনাক্ত করা হয়। এই জাহাজটি শনিবারের চিত্রে দেখা গিয়েছিল এবং তার উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সামরিক উপস্থিতি বাড়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

গেরাল্ড আর ফোর্ড এবং অ্যাব্রাহাম লিংকন উভয়ই ১১টি ক্যারিয়ার জাহাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, এবং প্রত্যেকটি স্ট্রাইক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে একাধিক গাইডেড মিসাইল ধ্বংসক জাহাজ। মোট ৫,৬০০ের বেশি কর্মী এই দুই ক্যারিয়ার জাহাজে সেবা দিচ্ছেন এবং প্রতিটি জাহাজে বহু বিমান মাটিতে অবতরণ, উৎক্ষেপণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

ব্রিটিশ মিডিয়া সংস্থা BBC Verify সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইরান অঞ্চলে ধ্বংসক জাহাজ, যুদ্ধজাহাজ এবং যোদ্ধা জেটের সংখ্যা বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। গেরাল্ড আর ফোর্ডের AIS সক্রিয়করণ এবং অ্যাব্রাহাম লিংকনের স্যাটেলাইটে দৃশ্যমানতা এই প্রবণতাকে সমর্থন করে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন সরকার ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখছে।

এই সময়ে, মার্কিন নৌবাহিনীর দুইটি ক্যারিয়ার জাহাজের গমন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গিব্রাল্টার স্ট্রেইটের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের সম্ভাবনা, পাশাপাশি আটলান্টিক ও আফ্রিকান উপকূলে বিমান চলাচল, অঞ্চলীয় শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, ক্যারিয়ার জাহাজের উপস্থিতি কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং আলোচনার টেবিলে চাপ বাড়ানোর একটি কৌশলগত উপাদান। ইরান সরকার ও মার্কিন সরকার উভয়েরই এই সময়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে।

পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে, গিব্রাল্টার স্ট্রেইট পার হওয়া, ক্যারিয়ার জাহাজের ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ এবং অতিরিক্ত ধ্বংসক জাহাজের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্লেখিত দশ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments