অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে পরাজয়ের পর ওমানের সঙ্গে শেষ ম্যাচে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের মতে, দলটি “বিপর্যস্ত” অবস্থায় আছে এবং এই ম্যাচে কোনো ধরণের লজ্জা না দেখাতে চায়।
অস্ট্রেলিয়া শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ গেমে দু’টি পরাজয়ের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারেনি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ফলে দলটি শীর্ষ আটের মধ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
বাকি থাকা একমাত্র গেমটি ওমানের সঙ্গে হবে, যা এখন ডেড রাবার হিসেবে গণ্য। কোচ ম্যাকডোনাল্ড জোর দিয়ে বলছেন, “ওমানের বিপক্ষে কোনো উদ্যমের ঘাটতি থাকবে না” এবং “আমরা এই ম্যাচে পুরোপুরি মনোযোগ দেব”।
ম্যাকডোনাল্ডের মন্তব্যে দলটির মানসিক অবস্থা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের দলটি সত্যিই বিপর্যস্ত, এটা স্বীকার করা যায়” এবং “এই অবস্থায় আমরা কীভাবে ফিরে আসব, তা নিয়ে কাজ করছি”। তিনি আরও যোগ করেন, “ওমানের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের শেষ সুযোগটি ব্যবহার করব”।
অস্ট্রেলিয়া গ্রুপে জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে অগ্রসর হওয়া ইতিহাসে মাত্র দু’বারই হয়েছে। এই পরাজয়গুলো দলকে শীর্ষ আটের মধ্যে না পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে, যা তাদের টুর্নামেন্টের স্বপ্নকে ভেঙে দিয়েছে।
দলটি শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর আগে পাকিস্তানে ৩-০ পরাজয়ের শিকার হয়। সেই সময়ে দ্রুতগতি বোলার প্যাট কামিন্স এবং জোশ হ্যাজলউড দুজনেই আঘাতের কারণে অংশ নিতে পারেননি, যা দলের বলিং শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে।
ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শও প্রথম দুই গেমে অনুপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণের সময় আঘাত পেয়ে তিনি টেস্টিকুলার রক্তপাতের শিকার হন, ফলে তার উপস্থিতি গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে সম্ভব হয়নি।
মিডিয়া অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে ক্যামেরন গ্রীনকে ফর্মের অভাবে টিমে রাখা এবং টিম ডেভিডকে নম্বর চার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে; ডেভিড ডিসেম্বর থেকে হ্যামস্ট্রিং আঘাতের কারণে খেলা করেননি।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, যিনি অতীতে ব্যাটিংয়ে ম্যাচ জেতার ক্ষমতা দেখিয়েছেন, সাম্প্রতিক গেমগুলোতে রান সংগ্রহে সমস্যায় পড়েছেন। তাছাড়া কামিন্স এবং হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি দলের অভিজ্ঞতা ও বলিং গুণগত মানকে প্রভাবিত করেছে।
ম্যাট রেনশো প্রথম দুই গ্রুপ গেমে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ স্কোরার ছিলেন, তবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচে তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।
কোচ ম্যাকডোনাল্ড নির্বাচনী বিতর্ককে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে বলেন, “বাইরের দৃষ্টিকোণ থেকে সবসময় ভিন্ন মতামত থাকবে, এবং কখনো কখনো তারা পুরো প্রক্রিয়ার জটিলতা বুঝতে পারে না”। তিনি দলীয় গঠন নিয়ে চলমান আলোচনার গুরুত্বকে স্বীকার করেছেন।
শেষে, ওমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত শেষ গেমটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য ডেড রাবার হলেও, কোচ ও খেলোয়াড়রা এটিকে শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে। তারা বলেছে, “এই গেমে আমরা সম্পূর্ণ উদ্যম নিয়ে খেলব এবং কোনো লজ্জা না দেখাব”।



