দশম আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের বি গ্রুপে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে পরাজিত করে গ্রুপ শীর্ষে উঠে। ১৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে ২৩ রানে হারানোর পর, পরের দিন কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬ উইকেটের পার্থক্যে জয় নিশ্চিত করে দলটি দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
জিম্বাবুয়ে কখনো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেনি, না কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালেও পৌঁছেছে। তবু শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া, দু’টি পূর্ব বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, গ্রুপ ম্যাচে তাদের পরাজিত করে দলটি অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করে। এই জয়গুলো দেশের ক্রীড়া উত্সাহীদের জন্য বড় আনন্দের কারণ।
ক্যাপ্টেন সিকান্দার রাজা ম্যাচের পর প্রকাশ্যে আনন্দের স্বর নিয়ে বললেন, “আমার মনে হয় না কেউ আমাদের এ পর্যন্ত আসার সুযোগ করে দিয়েছে। মানুষের মন জয় করা এবং তাদের সম্মান অর্জন করা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।” তার এই মন্তব্য দলটির জন্য আত্মবিশ্বাসের নতুন দিক উন্মোচন করে।
জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য “মন জয় করা” এবং “সম্মান অর্জন করা” বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আফ্রিকান দেশের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দলকে প্রভাবিত করেছে, ফলে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়েছে।
২০১৯ সালের পর থেকে দলটি ২০২৩ বিশ্বকাপে স্থান পায়নি, ফলে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণের সুযোগও হারিয়েছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অগ্রসর না হওয়ার পর কোচ হিথ স্ট্রিকসহ পুরো কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করা হয় এবং বোর্ডের কিছু সদস্যকে আইসিসি কর্তৃক স্থগিত করা হয়।
অর্থনৈতিক মন্দা এবং প্রশাসনিক অস্থিরতা দলকে পুনর্গঠনের পথে ধীরগতি করে। বিশেষ করে ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্যর্থতা দলকে দর্শক হিসেবে রেখে দেয়, যেখানে আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জিম্বাবুয়ে একমাত্র দল ছিল। আফ্রিকান বাছাইয়ে নামিবিয়া ও উগান্ডার কাছে পরাজিত হয়ে দলটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেনি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল পাকিস্তানে গিয়ে ম্যাচ খেলে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা করে। তবে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল দুই মাসের মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচ না খেলে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রবেশ করে।
এই অপ্রত্যাশিত সাফল্য দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় স্বীকৃতি এনে দেয়। গ্রুপ বি-তে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে পরাজিত করে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
ক্যাপ্টেনের উক্তি অনুসারে, দলটি এখন কেবল জয়ের আনন্দ নয়, দেশের মানুষের হৃদয় জয় করার লক্ষ্যেও কাজ করছে। এই মনোভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।
পরবর্তী ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল গ্রুপের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে, যা দলটির গ্রুপ শীর্ষ বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। দলটি এখন পর্যন্ত অর্জিত জয়গুলোকে ভিত্তি করে আরও উন্নতি করতে চায়।
সামগ্রিকভাবে, জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের এই দুই জয় তাদের দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা ও হতাশার পর একটি নতুন সূচনা নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান পুনরুদ্ধার করার জন্য এই সাফল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনো চলমান, তবে এই মুহূর্তে গ্রুপ শীর্ষে থাকা তাদের আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া জগতে জিম্বাবুয়ের স্থান পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



