বিশ্বকাপজয়ী জার্মানির ফুটবলার মেসুত ওজিল এবং তুরস্কের রাষ্ট্রপতির পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানসহ তুর্কি প্রতিনিধি দল ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত আটটা দুই মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকা উদ্দেশ্যে বিশেষ বিমান দিয়ে রওনা হয়। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে গাড়িবহরটি রোহিঙ্গা শিবিরের কাছাকাছি একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা খায়।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস মিডিয়াকে জানিয়ে বলেন, মেসুত ওজিলসহ তুর্কি দলের সকল সদস্য নিরাপদে আছেন, কোনো শারীরিক আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি এবং তারা সময়মতো কক্সবাজার থেকে রওনা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পুলিশ প্রটোকল গাড়ি ও অটোরিকশা দুটোই নিরাপদে স্থানান্তরিত করা হয়।
অটোরিকশা ধাক্কা খাওয়ার ফলে সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং চালক গুরুতরভাবে আহত হয়। বর্তমানে তার পরিচয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে জরুরি সেবা প্রদান করা হয়েছে। গাড়িবহরের অন্য কোনো গাড়ি বা যাত্রীতে কোনো আঘাতের রিপোর্ট নেই।
মেসুত ওজিল ও তার সঙ্গীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান এবং শিবিরের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ক্যাম্পের শিক্ষামূলক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পগুলো পরিদর্শনের পর, তিনি স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন, যেখানে উভয় দলে উচ্ছ্বাসপূর্ণ খেলোয়াড়দের দেখা যায়।
সন্ধ্যায় ইফতার অনুষ্ঠানে মেসুত ওজিল উপস্থিত ছিলেন এবং শিবিরের বাসিন্দাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে খাবার ভাগ করে নেন। তার উপস্থিতি শিবিরের শিশু ও যুবকদের মধ্যে বড় উৎসাহের সঞ্চার করে, যা স্থানীয় সংগঠনগুলোকে আনন্দিত করেছে।
রোহিঙ্গা ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, মেসুত ওজিলের এই সফর রোহিঙ্গা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড়ের সঙ্গে মাঠে খেলা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে ফুটবলে নতুন প্রতিভা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
দুর্ঘটনা সত্ত্বেও, মেসুত ওজিলের দল দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে এবং চালকের চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর তুর্কি প্রতিনিধি দল ঢাকা ফিরে গিয়ে তাদের সফরের ফলাফল ও শিবিরে করা কাজের মূল্যায়ন করবে। মেসুত ওজিলের দল ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা শিবিরে পুনরায় সফর করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে মানবিক সহায়তা ও ক্রীড়া কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যায়।
সামগ্রিকভাবে, দুর্ঘটনা কোনো প্রাণহানি না ঘটিয়ে শেষ হয়েছে এবং মেসুত ওজিলের সফর রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটির দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।



