‘Tell Me Lies’ সিরিজের স্রষ্টা মেগান ওপেনহাইমার তিনটি মৌসুমে জটিল ও বিশৃঙ্খল গল্প গড়ে তোলার পেছনের কৌশল সম্প্রতি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই নাটকটি হুলু (হুলু) প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয় এবং ২০০৮ সালের কলেজ জীবনের সূচনা থেকে ২০১৫ সালের একটি বিয়ের সমাপ্তি পর্যন্ত দুইটি সময়রেখা সমন্বয় করে। সিরিজটি শেষ হয়েছে, তবে তার নির্মাণ প্রক্রিয়া এখনও শিল্পের আলোচনায় রয়েছে।
মেগান ওপেনহাইমার, যিনি মূলত টেলিভিশন স্ক্রিপ্ট লেখায় পরিচিত, এই প্রকল্পে সৃষ্টিকর্তা ও প্রধান লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি এবং তার লেখক দল একসঙ্গে কাজ করে প্রতিটি মৌসুমে নতুন মোড় ও সংঘাত যুক্ত করেছেন, যা দর্শকদের মনোযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। শোটি হুলু (হুলু) এর মূল কন্টেন্ট হিসেবে প্রকাশিত হওয়ায় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছে।
সিরিজের গঠন দুটি সমান্তরাল সময়রেখা নিয়ে গঠিত: প্রথমটি ২০০৮ সালে কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হয় এবং দ্বিতীয়টি ২০১৫ সালে একটি বিয়ের দৃশ্যে শেষ হয়। এই দুই সময়সীমা একসঙ্গে বুনে গল্পের অগ্রগতি ঘটানো একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল, তবে ওপেনহাইমার ও তার দল সফলভাবে তা সম্পন্ন করেছে। সময়ের পার্থক্যকে ব্যবহার করে চরিত্রগুলোর বিকাশ এবং সম্পর্কের পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শোতে একাধিক প্রধান চরিত্রের সমাবেশ রয়েছে, যার মধ্যে লুসি, স্টিফেন এবং তাদের বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব পটভূমি ও ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সমগ্র কাহিনীর জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে। ensemble cast এর পারস্পরিক ক্রিয়া ও সংঘাতের মাধ্যমে গল্পের গতি বজায় রাখা হয়েছে, ফলে দর্শকরা প্রতিটি এপিসোডে নতুন দৃষ্টিকোণ পেতে পারেন।
‘Tell Me Lies’ মূলত ক্যারোলা লাভারিংয়ের ২০১৮ সালের একই নামের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে শোটি বইয়ের মূল কাহিনীর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিচ্যুত হয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় টক্সিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বন্ধুত্বের জটিলতা ও সামাজিক গতিবিধি তুলে ধরা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে লেখক দলকে গল্পের পরিধি বাড়িয়ে নতুন চরিত্র ও উপকাহিনী যুক্ত করার সুযোগ মিলেছে।
দর্শকগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট রাখতে শোটি ধারাবাহিকভাবে অপ্রত্যাশিত মোড় ও নাটকীয় ঘটনার মাধ্যমে চমক দিতে চেয়েছে। ওপেনহাইমার উল্লেখ করেছেন যে তার মস্তিষ্ক স্বভাবতই জটিল ও সর্বনিম্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি কল্পনা করে, যা গল্পের গঠনকে আরও তীক্ষ্ণ করে। তিনি দর্শকদের পূর্বাভাসকে বাধা দিতে এবং প্রতিটি এপিসোডে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করতে গুরুত্ব দিয়েছেন।
সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তার প্রধান উদ্বেগ ছিল কীভাবে গল্পকে মজাদার রাখা যায়, একই সাথে তা অতিরিক্ত নাটকীয় বা অযৌক্তিক না হয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে অতিরিক্ত পুনরাবৃত্তি বা অতিরঞ্জিত কাহিনীর ফলে দর্শকের আগ্রহ হ্রাস পেতে পারে। তাই প্রতিটি মৌসুমে নতুন থিম ও সংঘাতের মাধ্যমে শোকে সতেজ রাখা হয়েছে।
শোটি প্রচারিত হওয়ার পর দর্শকরা প্রায়ই চরিত্রগুলোর আচরণে রাগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট চরিত্রের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে এই আবেগময় প্রতিক্রিয়াই শোকে সামাজিক মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। দর্শকরা ধারাবাহিকভাবে মন্তব্য করে শোয়ের জটিলতা ও বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মেগান ওপেনহাইমার এবং তার লেখক দলের এই তিন-সিজনের কাজকে টেলিভিশন শিল্পে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। জটিল সময়রেখা, সমৃদ্ধ চরিত্র গঠন এবং অপ্রত্যাশিত প্লট টুইস্টের সমন্বয় শোকে দর্শকের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বর্ণনামূলক পদ্ধতি আরও বেশি সিরিজে দেখা যেতে পারে, যা দর্শকের বুদ্ধিমত্তাকে সম্মান করে।
‘Tell Me Lies’ সিরিজের সমাপ্তি সত্ত্বেও, মেগান ওপেনহাইমার এবং তার দল যে সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন তা টেলিভিশন নির্মাণের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। জটিলতা ও বাস্তবতার মধ্যে সমতা বজায় রেখে গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার এই পদ্ধতি শিল্পের অন্যান্য স্রষ্টাদের জন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে।



