চেলসির প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিয়র মঙ্গলবার ইউরোপীয় ফুটবলে রেসিজমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা রেসিজমে দোষী প্রমাণিত হবে তাদেরকে জীবদ্দশা ফুটবলে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া উচিত। তিনি এই মন্তব্য করেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সাম্প্রতিক অভিযোগের পর, যেখানে তিনি বেনফিকার গিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি তাকে জাতিগতভাবে অপমান করেছেন বলে দাবি করেন।
বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়র গেমের মাঝখানে মাঠ ছেড়ে যান, কারণ তিনি বেনফিকার প্রেস্টিয়ান্নি তার ওপর রেসিজমের আক্রমণ চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। প্রেস্টিয়ান্নি এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বেনফিকা দল দাবি করে যে তিনি একটি ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’এর শিকার। ইউইফা যদি তাকে দোষী পায় তবে তিনি দশটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারেন।
ম্যাচের পর বেনফিকার ম্যানেজার জোসে মোরিনহো ভিনিসিয়াসের উদযাপনকে ‘বোকা’ বলে সমালোচনা করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে তার উদযাপনটি উত্তেজনা বাড়িয়েছে। রোজেনিয়র মোরিনহোর মন্তব্যের উপর মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন, কারণ বিষয়টি এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন ভিনিসিয়াসের রাগের পেছনে কোনো কারণ আছে।
রোজেনিয়র বলেন, “সমাজে রেসিজমের কোনো স্থান নেই, ফুটবলে তা আরও অনুপযুক্ত। যখন কোনো খেলোয়াড় দুঃখিত দেখায়, সাধারণত তার পেছনে কোনো কারণ থাকে।” তিনি নিজের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, “আমি নিজেও রেসিজমের শিকার হয়েছি, এমন সময়ে নিজের গর্বের বিষয়কে অন্যের দৃষ্টিতে নিন্দা করা সবচেয়ে কষ্টকর অনুভূতি।”
কোচটি আরও যোগ করেন, “যদি কোনো খেলোয়াড়, কোচ বা ম্যানেজার রেসিজমে দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তাদেরকে ফুটবলের মাঠ থেকে চিরতরে বাদ দেওয়া উচিত। আমার জন্য এটা স্পষ্ট।” তিনি রেসিজমের বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
রোজেনিয়র রেসিজমের কোনো রূপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে, এবং বলছেন যে খেলোয়াড়ের উদযাপন যাই হোক না কেন, জাতিগত বৈষম্য কখনোই যুক্তিযুক্ত করা যাবে না। তিনি তদন্তের বিশদ জানার জন্য অপেক্ষা করছেন, তবে তার মূল বার্তা স্পষ্ট: রেসিজমের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা।
ইউইএফা এখনও প্রেস্টিয়ান্নি এবং ভিনিসিয়াসের মধ্যে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে; প্রেস্টিয়ান্নি রেসিজমের অভিযোগ অস্বীকার করেছে, আর ভিনিসিয়াস তার ওপর আক্রমণ হওয়ার কথা পুনরায় জোর দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর বেনফিকার ক্লাবের মুখপাত্রও বলেছিলেন, “প্রেস্টিয়ান্নি কোনো রেসিজমের কাজ করেননি, তিনি একটি ভুল বোঝাবুঝির শিকার।” ক্লাবটি উল্লেখ করেছে যে এই ধরনের অভিযোগের ফলে খেলোয়াড়ের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ে এবং তা দ্রুত সমাধান করা দরকার।
চেলসির কোচ রোজেনিয়র এই বিষয়টি নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন, তা হল রেসিজমের ইতিহাসিক দিক। তিনি উল্লেখ করেন, “রেসিজমের দীর্ঘ ইতিহাস আছে, এবং আমাদের দায়িত্ব হল এই দুঃখজনক প্রবণতাকে শেষ করা।” তার মতে, ফুটবল শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, বরং সমাজের প্রতিফলন, তাই এতে ন্যায়বিচার ও সমতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
রোজেনিয়র শেষ পর্যন্ত বলেন, “যদি কোনো খেলোয়াড় বা কোচ রেসিজমে দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তাদেরকে ফুটবলের কোনো স্তরে ফিরে আসতে না দেওয়া আমাদের নীতি হওয়া উচিত।” তিনি এই বক্তব্যকে তার কোচিং ক্যারিয়ারের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইউইএফা থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের আগে উভয় দলই তাদের নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছে। রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়র ইতিমধ্যে ম্যাচে ফিরে আসেননি, এবং বেনফিকার প্রেস্টিয়ান্নি তার দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
ফুটবলের এই উচ্চ পর্যায়ের সংঘাতের ফলে রেসিজমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কঠোর নীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। রোজেনিয়রের জীবদ্দশা নিষেধাজ্ঞার আহ্বান এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে ইউইএফা কীভাবে পদক্ষেপ নেবে তা নজরে থাকবে।



