ফাইন আর্টস কমিশন, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগে গঠিত, হোয়াইট হাউসের নতুন ব্যালরুমের নকশা পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই অনুমোদনটি পূর্বে কমিশনের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় স্থপতিদের করা পরিবর্তনের পর এসেছে। অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্যানেলটি ২,০০০‑এর বেশি জনমত মন্তব্য পর্যালোচনা করেছে।
প্যানেলটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত এবং তারা স্থপতিদের সংশোধিত পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দিয়েছে। পরিবর্তনগুলো মূলত ঐতিহাসিক সংরক্ষণ সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করার জন্য করা হয়েছিল। প্যানেলটি নকশা অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পকে অগ্রসর করার অনুমতি দিয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান রোডনি মিমস কুক জুনিয়র এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি তুলে ধরেছেন, “আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও অতিথিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ধরনের সুবিধা প্রয়োজন, যা ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাহিদা পূরণ করবে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেছেন যে নতুন ব্যালরুমটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানগুলোর জন্য অপরিহার্য।
হোয়াইট হাউসের পূর্বের ইস্ট উইং গত শরতে ধ্বংস করা হয়েছিল, যাতে নতুন ব্যালরুমের নির্মাণের জন্য জায়গা তৈরি হয়। ঐ অংশটি দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক কাঠামো হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এটিকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে। ধ্বংসকাজের পর নতুন নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন, একটি অলাভজনক সংস্থা, ব্যালরুমের নির্মাণ থামাতে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। সংস্থাটি দাবি করে যে প্রকল্পের পরিকল্পনা আইনগতভাবে নির্ধারিত পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই আইনি চ্যালেঞ্জটি প্রকল্পের সময়সূচি ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান হোয়াইট হাউসের সুবিধাগুলোকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও রাষ্ট্রদূতদের স্বাগত জানাতে অপর্যাপ্ত বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নতুন ব্যালরুমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোকে আরও মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজিত করা সম্ভব হবে। এই যুক্তি প্রকল্পের সমর্থকদের কাছে মূল যুক্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রকল্পের সমর্থকরা দাবি করেন যে নতুন ব্যালরুমটি “বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ব্যালরুম” হবে এবং এর নির্মাণের জন্য কোনো সরকারি তহবিল ব্যবহার করা হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগত দানদাতাদের অবদানের মাধ্যমে অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। এই পদ্ধতি প্রকল্পের আর্থিক স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ইতিহাস সংরক্ষণ গোষ্ঠীগুলো এই উদ্যোগের কঠোর বিরোধিতা করেছে। তারা যুক্তি দেয় যে ঐতিহাসিক কাঠামোর ধ্বংস ও নতুন নির্মাণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের ক্ষতি করবে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন প্রধান, তবে অন্যান্য স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থা ও ব্যক্তিরাও সমালোচনা প্রকাশ করেছে।
কমিশনের সেক্রেটারি থমাস লুয়েবকে জানিয়েছেন যে প্যানেলটি ২,০০০‑এর বেশি জনমত মন্তব্য পেয়েছে, যার মধ্যে ৯৯% এর বেশি মন্তব্য প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে জনমত ব্যাপকভাবে বিরোধিতামূলক, যা ভবিষ্যতে প্রকল্পের বাস্তবায়নে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই প্রতিক্রিয়া সরকারকে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
অবশেষে, অনুমোদন সত্ত্বেও প্রকল্পটি আইনি লড়াই এবং জনমত বিরোধের মুখে রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ব্যালরুমকে জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করলেও, সংরক্ষণ গোষ্ঠী ও সাধারণ জনগণের উদ্বেগ প্রকল্পের সময়সূচি ও বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে আদালতের রায় এবং ফাইন আর্টস কমিশনের অতিরিক্ত নির্দেশনা প্রকল্পের চূড়ান্ত দিক নির্ধারণ করবে।



