মেটা আগামী এপ্রিল ২০২৬ থেকে Messenger-র স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট messenger.com বন্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। কোম্পানির সহায়তা পৃষ্ঠায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঐ তারিখের পর এই ঠিকানায় কোনো সেবা থাকবে না এবং ব্যবহারকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেটা.com/messages‑এ রিডাইরেক্ট হবে। এই পরিবর্তনটি মেটা প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক সেবা সংহতকরণের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিডাইরেক্টের পর ব্যবহারকারীরা কম্পিউটারে মেটা.com/messages‑এর মাধ্যমে চ্যাট চালিয়ে যেতে পারবেন। একই সময়ে, মেটা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে কথোপকথন অব্যাহত রাখা সম্ভব। মেটা উল্লেখ করেছে যে, ব্যবহারকারীরা তাদের বর্তমান কথোপকথনগুলোকে ওয়েব অথবা মোবাইল উভয় মাধ্যমেই চালিয়ে যেতে পারবেন, ফলে পূর্বের স্বতন্ত্র messenger.com‑এর কার্যকারিতা বজায় থাকবে না।
যেসব ব্যবহারকারী মেটা অ্যাকাউন্ট ছাড়া Messenger ব্যবহার করতেন, তাদের জন্য এখন কেবল মোবাইল অ্যাপই একমাত্র বিকল্প থাকবে। অর্থাৎ, মেটা.com/messages‑এ লগইন না করলে ওয়েব থেকে মেসেজ পাঠানো বা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। এই পরিবর্তনটি বিশেষত সেই ব্যবহারকারীদের প্রভাবিত করবে, যারা তাদের মেটা প্রোফাইল নিষ্ক্রিয় রেখেছেন।
মেসেজের ইতিহাস পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহারকারীরা প্রথমবার ব্যাকআপ তৈরি করার সময় নির্ধারিত PIN ব্যবহার করতে পারবেন। যদি PIN স্মরণ না থাকে, মেটা সেটি রিসেট করার সুবিধা প্রদান করেছে। রিসেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পূর্বের চ্যাট রেকর্ডগুলো যেকোনো ডিভাইসে পুনরায় লোড করা সম্ভব হবে, যা ডেটা নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
এই পদক্ষেপটি কয়েক মাস আগে মেটা দ্বারা উইন্ডোজ ও ম্যাকের জন্য সরবরাহিত স্বতন্ত্র ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন বন্ধের পরের ধারাবাহিকতা। পূর্বে ডেস্কটপ অ্যাপ ব্যবহারকারীকে মেটা ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট করা হতো, ফলে স্বতন্ত্র অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা কমে গিয়েছিল। এখনও একই কৌশল ওয়েব সংস্করণে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা সেবা একীভূত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
Messenger ওয়েবসাইটের বন্ধ হওয়ার খবর প্রথমে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার আলেসান্দ্রো প্যালুজি লক্ষ্য করেন। তার পর্যবেক্ষণ টেকক্রাঞ্চ-এ প্রকাশিত হয়, যা মেটার অফিসিয়াল ঘোষণার আগে সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্যালুজির বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে মেটা দীর্ঘমেয়াদে একক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা কেন্দ্রীভূত করতে চায়।
মেটা ব্যবহারকারীদের এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে Messenger ওয়েবসাইট ও অ্যাপের পপ‑আপ নোটিফিকেশন ব্যবহার করেছে। নোটিফিকেশনটি বন্ধের তারিখ এবং রিডাইরেক্টের তথ্যসহ নির্দেশনা প্রদান করে। ব্যবহারকারীরা সামাজিক মাধ্যমে এই আপডেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে, বিশেষত যারা মেটা প্রোফাইল নিষ্ক্রিয় রেখেছেন এবং ওয়েবের মাধ্যমে মেসেজিং চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
মেটা একাধিক Messenger প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে খরচ কমানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট ও ডেস্কটপ অ্যাপ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মেটা.com এবং মোবাইল অ্যাপ রক্ষণাবেক্ষণ করলে সার্ভার, আপডেট ও সাপোর্টের ব্যয় হ্রাস পাবে। বিশ্লেষকরা অনুমান করেন যে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে মেটার আর্থিক দক্ষতা বাড়াবে।
Messenger প্রথমে ২০০৮ সালে ‘Facebook Chat’ নামে পরিচিত হয় এবং ২০১১ সালে স্বতন্ত্র অ্যাপ হিসেবে চালু হয়। এরপর মেটা এই সেবাকে ফেসবুকের মূল প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা করে একটি স্বাধীন যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করে। ২০১৪ সালে মেটা সামাজিক নেটওয়ার্ক থেকে মেসেজিং ফিচার সরিয়ে Messenger‑কে আরও স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে আসে।
মেটা এখন Messenger‑কে একক ওয়েবসাইট ছাড়া মেটা.com/messages এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে



