তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আজ একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বি.এস.এস.)ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এডিটর মাহবুব মোরশেদের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেয়। কমিটির কাজের লক্ষ্য হল অভিযোগগুলোকে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
কমিটির প্রধান হিসেবে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড‑১) নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্য হিসেবে প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) এবং মাস কমিউনিকেশন বিভাগের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের প্রেস‑১ বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিবকে সদস্য-সচিবের পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
এই কমিটি গঠনের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থায় প্রকাশিত বি.এস.এস. ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবরের সঙ্গে যুক্ত ব্যাপক অভিযোগের প্রেক্ষাপট। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, অভিযোগগুলোকে যথাযথভাবে তদন্ত না করা হলে জনমত ও সংবাদ সংস্থার স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন তোলা হতে পারে, তাই দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কমিটির কাজের পরিধিতে রয়েছে অভিযোগের মূল বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিবৃতি সংগ্রহ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই করা। তদন্তের সময় প্রমাণের যথার্থতা, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলীর অনুসরণযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
তদন্তের ফলাফল ও সুপারিশসমূহ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে উপস্থাপন করতে হবে। এই সময়সীমা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রমে পুনরায় বিশ্বাস স্থাপন করা যায়।
বিএসএসের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে কিছু কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে। তবে মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, তদন্তের সময় সকল পক্ষের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা হবে এবং কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে সত্য উদঘাটন করা হবে।
কমিটির গঠন ও কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে যে, তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় সকল নথি, রেকর্ড এবং আর্থিক ডেটা সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, যদি প্রয়োজন হয় তবে বাহ্যিক বিশেষজ্ঞের মতামতও নেওয়া হতে পারে, যাতে তদন্তের ফলাফল আরও নির্ভরযোগ্য হয়।
এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, বি.এস.এস. সংস্থার স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং সরকারকে মিডিয়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার দায়িত্বে আরও দৃঢ় অবস্থানে আনবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তদন্তের ফলাফল যদি প্রমাণ করে যে কোনো অবৈধ কার্যক্রম হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, যদি অভিযোগ অপ্রমাণিত থাকে, তবে তা দ্রুতই জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।
এই তদন্তের মাধ্যমে সরকার মিডিয়া সংস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এটি সংবাদ সংস্থার অভ্যন্তরে নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার জন্য একটি সতর্কতা স্বরূপ কাজ করবে।
অবশেষে, মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, তদন্তের সময় সকল প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিমালা মেনে চলা হবে এবং ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংস্থার কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন বা সংস্কার প্রয়োজন হলে তা তৎক্ষণাৎ বাস্তবায়ন করা হবে।



