বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে জাপানের নতুন অ্যানিমেটেড ফিচার ‘এ নিউ ডন’ উপস্থাপিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি তিনজন শৈশবের বন্ধু একসাথে তাদের গ্রামাঞ্চলের প্রিয় ফায়ারওয়ার্ক কারখানা রক্ষা করার চেষ্টা নিয়ে গড়ে উঠেছে, যেখানে পৌরসভার ঋণ আদায়ের জন্য জমি জব্দের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও অ্যানিমেশন কাজ একসঙ্গে পরিচালনা করেছেন ভিজ্যুয়াল শিল্পী-লেখক-দিগ্দর্শী শিনোমিয়া ইউশিতোশি, যিনি ‘ইয়োর নেম’ ছবির স্মরণীয় জলের ফ্ল্যাশব্যাক দৃশ্যের জন্য পরিচিত।
শিনোমিয়া পূর্বে ‘ইয়োর নেম’ এর ভিজ্যুয়াল দিকের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার স্বতন্ত্র শৈলী ‘এ নিউ ডন’ এ আরও উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। চলচ্চিত্রের পটভূমি চিত্রকর্মের মতো রঙিন ও সূক্ষ্ম, যেখানে ঐতিহ্যবাহী চরিত্র অ্যানিমেশনকে মাটির মূর্তি (ক্লে-অ্যানিমেশন) দিয়ে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। এই মিশ্রণটি দর্শকের কাছে স্বপ্নময় এবং কখনো কখনো অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল একটি প্রাচীন ফায়ারওয়ার্ক কারখানা, যা স্থানীয় জনগণের জন্য গর্বের প্রতীক। তবে, নগর পরিষদ আর্থিক ঘাটতির কারণে এই সম্পত্তি জব্দ করে পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা করে, যা ‘প্রশাসনিক অধিগ্রহণ’ নামে পরিচিত প্রক্রিয়ার অংশ। তিন বন্ধুরা, যারা শৈশব থেকেই একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, এই হুমকির মুখে একত্রিত হয়ে কারখানাটিকে বাঁচানোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে।
চলচ্চিত্রে রিকু হাগিওয়ারা, কোটোনে ফুরুকাওয়া এবং মিয়ু ইরিনো প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাদের কণ্ঠস্বরের সমন্বয় গল্পের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছে, যদিও চরিত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলোকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে স্ক্রিপ্টে সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। মোট দৈর্ঘ্য মাত্র এক ঘন্টা পনেরো মিনিট, যা সংক্ষিপ্ত হলেও ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ডের মাধ্যমে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
বার্লিন ফেস্টিভ্যালে জাপানি অ্যানিমেশনকে লাইভ-অ্যাকশন সিনেমার সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে ২০০২ সালে ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’ স্বর্ণভালুক জয় করার পর থেকে। ‘এ নিউ ডন’ এই ঐতিহ্যকে ধারিয়ে নিয়ে প্রতিযোগিতার মঞ্চে উপস্থিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে জাপানি অ্যানিমের নতুন দিক উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়।
সমালোচকরা ছবির চিত্রশৈলীর প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন যে, শিনোমিয়ার সৃষ্টিকর্মে রঙের ব্যবহার ও দৃশ্যের গঠন অনন্য এবং চোখ ধাঁধানো। তবে, স্ক্রিপ্টের গভীরতা ও আবেগীয় প্রভাবের ক্ষেত্রে ‘ইয়োর নেম’ বা ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’ এর মতো ক্লাসিকের তুলনায় কিছুটা কম বলে মতামত প্রকাশ পেয়েছে। তবুও, চলচ্চিত্রটি স্বপ্নময় ভিজ্যুয়াল ভ্রমণ হিসেবে দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে।
সাউন্ডট্র্যাকের দায়িত্বে আছেন শুতা হাসুনুমা, যিনি ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিকের ছোঁয়া যুক্ত করে ছবির গতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছেন। তার সৃষ্ট সুরগুলো দৃশ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে গল্পের উত্থান-পতনকে আরও তীব্র করে, যা অ্যানিমেশনের স্বপ্নময় পরিবেশকে আধুনিক রিদমের সঙ্গে মিশ্রিত করে।
সারসংক্ষেপে, ‘এ নিউ ডন’ একটি দৃষ্টিনন্দন, যদিও কখনো কখনো জটিল, অ্যানিমেটেড ফিচার যা ফায়ারওয়ার্ক শিল্পের ঐতিহ্য ও আধুনিক নগর নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভিজ্যুয়াল প্রেমিক ও অ্যানিমেশন উত্সাহীদের জন্য এটি একটি মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা হতে পারে, যদিও গল্পের আবেগীয় গভীরতা সীমিত। বার্লিনের বড় মঞ্চে এই চলচ্চিত্রের উপস্থিতি জাপানি অ্যানিমের বৈচিত্র্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে, এবং দর্শকরা এর স্বপ্নময় চিত্র ও সাউন্ডের মিশ্রণ উপভোগ করতে পারবেন।



