ফেব্রুয়ারি ২০, শুক্রবার ‘দ্য ড্রেডফুল’ শিরোনামের নতুন হরর চলচ্চিত্রটি থিয়েটারে মুক্তি পেয়েছে। ১৫শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে স্থাপিত এই গল্পটি নাতাশা কেরমানি পরিচালনা ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন এবং রেটেড আর, মোট ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটের দৈর্ঘ্য। প্রধান ভূমিকায় স্যোফি টার্নার, কিট হ্যারিংটন, মার্সিয়া গে হার্ডেন এবং লরেন্স ও’ফুয়ারিন অভিনয় করেছেন।
চিত্রটি কোর্নওয়ালের প্রাকৃতিক দৃশ্য ব্যবহার করে তৈরি, যেখানে ঘন কুয়াশা এবং পুরনো গ্রাম্য পরিবেশের মাধ্যমে মধ্যযুগীয় মেজাজকে জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শুটিংয়ের সময় কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে কিছু দর্শকের শ্বাসপ্রশ্বাসে প্রভাব ফেলেছিল, যা চলচ্চিত্রের ভয়াবহ পরিবেশকে বাড়িয়ে তুলেছে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে অ্যান (স্যোফি টার্নার), যিনি গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করছেন এবং তার শাসনকারী শাশুড়ি মরওয়েন (মার্সিয়া গে হার্ডেন) এর তীব্র নিয়ন্ত্রণের মুখোমুখি। অ্যানের স্বামী সিয়ামাস (লরেন্স ও’ফুয়ারিন) রোজের যুদ্ধের সময় ফ্রন্টে গিয়েছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের শেষে তিনি নিহত হয়েছেন। কিট হ্যারিংটন অভিনীত জাগো, অ্যানের শৈশবের বন্ধু, যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে সিয়ামাসের মৃত্যুর খবর জানায় এবং অ্যানের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করে।
অ্যান ও জাগোর গোপন সম্পর্ক মরওয়েনের তীব্র সন্দেহ ও বিরোধের জন্ম দেয়। শাশুড়ি তার শাসন বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা ঘরবাড়ির মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। এই পারিবারিক সংঘাতের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রটি অতিপ্রাকৃত হররের উপাদানও যুক্ত করে, যেখানে মরওয়েনের চরিত্র ধীরে ধীরে রক্তাক্ত হিংসায় রূপান্তরিত হয়।
মার্সিয়া গে হার্ডেনের পারফরম্যান্সকে চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি চরিত্রের গলায় গর্জন ও রক্তাক্ত হত্যার দৃশ্যগুলোতে একধরনের বন্য উন্মাদনা প্রকাশ করেন, যা ১৯৬০-এর দশকের হ্যামার হরর চলচ্চিত্রের স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে সক্ষম। তার অভিনয় শৈল্পিকভাবে অতিরিক্ত হলেও, দর্শকদের জন্য একটি তীব্র অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
সামগ্রিকভাবে ‘দ্য ড্রেডফুল’ প্রচলিত লোক হরর শৈলীর অনুসরণে চেষ্টা করেছে, তবে সমালোচকরা উল্লেখ করেন যে চলচ্চিত্রটি দীর্ঘায়িত হয়ে তন্দ্রা সৃষ্টি করে এবং ভয়ের মুহূর্তগুলো প্রত্যাশিত তীব্রতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। দৃশ্যমান পরিবেশ ও কুয়াশার ব্যবহার যদিও প্রশংসনীয়, তবে গল্পের গতি ও নাটকীয় উত্তেজনা পর্যাপ্তভাবে বজায় রাখতে পারেনি।
দর্শকরা চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল দিককে প্রশংসা করলেও, কিছুজন কুয়াশার অতিরিক্ত ঘনত্বের কারণে শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করেন। এই শারীরিক প্রতিক্রিয়া চলচ্চিত্রের পরিবেশগত বাস্তবতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে, যদিও তা সকলের জন্য স্বস্তিকর নয়।
সারসংক্ষেপে, ‘দ্য ড্রেডফুল’ ঐতিহাসিক পটভূমি ও ক্লাসিক হররের উপাদানকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা করেছে, তবে তার গতি ও ভয়াবহতা কিছু দর্শকের কাছে অপর্যাপ্ত মনে হতে পারে। মার্সিয়া গে হার্ডেনের উন্মাদ পারফরম্যান্সের জন্য চলচ্চিত্রটি এখনও হরর প্রেমিকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প রয়ে গেছে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।



