21 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিমেটা সিইও জুকারবার্গের আদালতে সাক্ষ্য: কিশোরদের সামাজিক মিডিয়া আসক্তি ও ক্ষতি

মেটা সিইও জুকারবার্গের আদালতে সাক্ষ্য: কিশোরদের সামাজিক মিডিয়া আসক্তি ও ক্ষতি

লস এঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে বুধবার মেটা সিইও মার্ক জুকারবার্গ আদালতে উপস্থিত হয়ে মেটা প্ল্যাটফর্মের সামাজিক মিডিয়া অ্যাপগুলো কিশোর ও শিশুদের জন্য আসক্তিকর এবং ক্ষতিকারক কিনা তা নির্ধারণের লক্ষ্যে চলমান মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলাটি মেটা প্ল্যাটফর্মের সেবাগুলোকে তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলে তা বিচার করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মামলাটির মূল অভিযোগকারী ২০ বছর বয়সী কেজিএম (প্রথম নাম ক্যালি) নামে পরিচিত এক তরুণী, যিনি মেটার চারটি সেবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার দাবির ভিত্তি হল মেটার অ্যাপগুলো কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহার এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।

মেটার অভ্যন্তরীণ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে যে পিতামাতার তত্ত্বাবধান সত্ত্বেও কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক মিডিয়ার প্রতি অনিয়ন্ত্রিত আকর্ষণ দেখায়। বিশেষ করে যেসব তরুণ কঠিন জীবনঘটনা অভিজ্ঞতা করেছে, তারা অ্যাপের অতিরিক্ত ব্যবহার করার প্রবণতা বেশি দেখায়। এই তথ্যগুলো আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

মামলার আইনজীবীরা জুকারবার্গকে জিজ্ঞাসা করেন, ইনস্টাগ্রাম কর্মচারীদের দৈনিক ব্যবহার বাড়ানোর জন্য কোনো লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল কি না। জুকারবার্গ পূর্বে কংগ্রেসে এ বিষয়ে অস্বীকার করলেও, ২০১৫ সালের একটি ইমেইল চেইন যা আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, তাতে তিনি ব্যবহারকারীর অ্যাপ ব্যবহারের সময় ১২ শতাংশ বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছেন বলে উল্লেখ আছে।

ইনস্টাগ্রামের সৌন্দর্য ফিল্টার ব্যবহারের প্রশ্নেও জুকারবার্গকে জিজ্ঞাসা করা হয়। মেটার অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞরা কিশোর-কিশোরীদের জন্য এই ফিল্টারগুলো নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করলেও, কোম্পানি এখনও সেগুলো চালু রাখার অবস্থায় রয়েছে।

মেটার অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪ মিলিয়ন শিশুরা, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সের প্রায় ৩০ শতাংশ, ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। এই তথ্যগুলো কেজিএমের মামলায় মেটার তরুণ ব্যবহারকারীদের সংখ্যা ও বয়স সংক্রান্ত উদ্বেগকে তুলে ধরে।

বয়স যাচাইয়ের কঠিনতা নিয়ে জুকারবার্গ উল্লেখ করেন যে, স্মার্টফোন নির্মাতারা, বিশেষ করে অ্যাপল, এই ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপল ডেভেলপারদের জন্য বয়স নিশ্চিতকরণ টুল চালু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের বাড়তি চাপে গৃহীত একটি পদক্ষেপ।

আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জুকারবার্গ অধিকাংশ সময় মেটার অফিসিয়াল বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন এবং প্রতিপক্ষের আইনজীবীদের দস্তাবেজের ব্যাখ্যা ভুল বা প্রসঙ্গবহির্ভূত বলে দাবি করেন। তিনি প্রমাণের কিছু অংশকে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেন, যদিও একই দস্তাবেজগুলোই মামলায় মূল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মামলাটি এখনো চলমান এবং কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি। তবে এই বিচার প্রক্রিয়া মেটার নীতি ও ব্যবহারকারীর সুরক্ষা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ নিয়মাবলীর উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য সামাজিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়ন করছে। এই মামলায় মেটা কীভাবে তার প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার নীতি পরিবর্তন করবে এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলবে, তা আগামী মাসে স্পষ্ট হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments