১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিজয়ী দল সরকার গঠনের পর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারী প্রোটোকল হ্রাসের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। সিদ্ধান্তগুলো ঢাকা শহরের প্রধান সরকারি ভবন থেকে জানানো হয় এবং লক্ষ্য রাখা হয়েছে প্রশাসনিক গতি বৃদ্ধি ও জনসাধারণের সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের মতে, তিনি এখন নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি, নিজস্ব চালক এবং নিজে ক্রয় করা জ্বালানি ব্যবহার করছেন। এ পরিবর্তনটি সরকারী গাড়ি ও চালকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীের বহরে থাকা ১৩–১৪টি সরকারি গাড়ি কমিয়ে মাত্র চারটি গাড়িতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। গাড়ির সংখ্যা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাড়ি চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান বাতিল করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা ট্র্যাফিক জ্যাম কমিয়ে রাস্তায় স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে।
জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে; এখন শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পতাকা তোলা হবে, সাধারণ গাড়ি চলাচলে তা ব্যবহার করা হবে না। এই পদক্ষেপটি জাতীয় প্রতীককে বিশেষ অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের স্থানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধিকাংশ বৈঠক এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ভিআইপি গাড়ির চলাচলজনিত জনভোগান্তি কমে। এই পরিবর্তনটি সরকারি সম্পদের ব্যবহারকে আরও কার্যকর করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নতুন শিডিউল অনুযায়ী, সরকার সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করবে এবং প্রতি শনিবার অফিস খোলা থাকবে। শনিবারের অফিস সময়সূচি নাগরিক সেবা দ্রুততর করার পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের কাজের চাপ হ্রাসের লক্ষ্যে নির্ধারিত।
সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে বিএনপি সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। দলটির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং সরকারি সুবিধা কমিয়ে আনার নীতি সমর্থন করেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বৃক্ষরোপণ এবং খাল খননসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবারিক সেবা দ্রুত নাগরিকের কাছে পৌঁছানোর জন্য ফ্যামিলি কার্ডের বিতরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি জানিয়েছেন, সরকার ১৮০ দিনের একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করবে। রোডম্যাপে রমজান মাসে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং গণমাধ্যম কমিশনের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন নীতিগুলো দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র উন্নত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, প্রোটোকল হ্রাস ও সাপ্তাহিক অফিস চালু করার মাধ্যমে সরকার জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছতা ও সেবা মান উন্নয়নের সংকেত দিচ্ছে। তবে, বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপগুলোকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নীতি বাস্তবায়নে পর্যবেক্ষণ বাড়বে। নতুন শাসন পদ্ধতি যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা সরকারী খরচ কমিয়ে জনমতকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।



