বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের বাজারে প্রাকৃতিক ও পচনযোগ্য পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তিনি লাইসেন্সের অতিরিক্ত শর্তাবলী সরিয়ে, নৈতিকতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে সংস্কার চালানোর আহ্বান জানান।
মন্ত্রীর বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পাট ও বস্ত্র খাতে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। এজন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠন এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা হ্রাস করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, লাইসেন্সের বাধ্যতামূলকতা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না করে, সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য করা উচিত, যাতে ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
বিভাগের উপ-মন্ত্রী মো. শরীফুল আলমও একই সভায় জোর দেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করতে দেশের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, সক্ষমতা এবং সুবিধা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা দরকার। তিনি সরকারের নির্দেশনা অনুসারে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেন।
সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর একটি উপস্থাপনা দেন। তিনি শিল্পের বর্তমান অবস্থা, রপ্তানি পরিসংখ্যান এবং চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করেন, যা নীতিগত সংস্কারের ভিত্তি গঠন করবে। উপস্থাপনা থেকে স্পষ্ট হয়, সরকার পাট ও বস্ত্র খাতে উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে সেগুলোর বাস্তবায়নে নীতিগত বাধা এখনও রয়েছে।
সভায় অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব সুব্রত শিকদার, অতিরিক্ত সচিব রায়না আহমদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি নীতিগত সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্তরের সমন্বয় ও সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার পরিবেশবান্ধব পণ্য চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাট ও জৈব বস্ত্রের রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা সহজতর লাইসেন্সিং, স্বচ্ছ নিয়মাবলী এবং নৈতিক মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে আগ্রহী হবে।
অন্যদিকে, সংস্কার না হলে জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অপ্রয়োজনীয় শর্তাবলী বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এটি দেশের রপ্তানি সক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনকারীদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই, নীতিগত কাঠামোর দ্রুত পুনর্গঠন এবং বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
বিশ্বের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, পাট ও বস্ত্র শিল্পে পরিবেশবান্ধব পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে। এই দিক থেকে, সরকার যদি সুনির্দিষ্ট ট্যাক্স ছাড়, বিনিয়োগের জন্য বিশেষ জোন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) তহবিলের ব্যবস্থা করে, তবে শিল্পের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
সংক্ষেপে, মন্ত্রীর নীতিগত সংস্কার আহ্বান এবং উপ-মন্ত্রীর সমন্বিত কাজের পরিকল্পনা বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল চালিকাশক্তি হতে পারে। তবে সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি, নিয়মের স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর। এই দিক থেকে, নীতি গঠনের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করা দেশের বস্ত্র ও পাট খাতের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



