প্রিমিয়ার লীগ ২০২৬ মৌসুমে দলগুলোর পারফরম্যান্সকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী লিগ টেবিলের পাশাপাশি অর্ধ-সময় এবং দ্বিতীয় অর্ধের ফলাফল আলাদা করে টেবিল তৈরি করা হলে র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।
প্রথম অর্ধের ফলাফলকে ভিত্তি করে গড়া টেবিলে ম্যানচেস্টার সিটি আর্সেনালের চেয়ে নয় পয়েন্টের বেশি নিয়ে শীর্ষে দাঁড়ায়। তবে একই দলকে কেবল দ্বিতীয় অর্ধের ফলাফল দিয়ে দেখলে তারা ষষ্ঠ স্থানে নেমে আসে এবং আর্সেনালের থেকে তেরো পয়েন্ট পিছিয়ে থাকে। এই পার্থক্যটি ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম ছয়টি লিগ ম্যাচে দেখা যায়, যেখানে তারা দ্বিতীয় অর্ধে কোনো গোল করেনি, কিন্তু প্রথম অর্ধে ছয়টি গোলের মাধ্যমে শক্তি দেখিয়েছে।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থানও অর্ধ-সময় ভিত্তিক টেবিলে নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। প্রথম অর্ধের টেবিলে তারা চতুর্থ স্থানে থাকলেও, দ্বিতীয় অর্ধের টেবিলে তারা তেরোতম স্থানে নেমে আসে। একই রকম পরিবর্তন অ্যাস্টন ভিলার ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায়; প্রথম অর্ধে তারা তেরোতম হলেও, দ্বিতীয় অর্ধে তারা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে।
ওয়েস্ট হ্যামও অর্ধ-সময় ভিত্তিক টেবিলে উল্লেখযোগ্য পতন অনুভব করে। প্রথম অর্ধের টেবিলে তারা দশম স্থানে থাকলেও, দ্বিতীয় অর্ধের টেবিলে তারা বিশতম স্থানে নেমে আসে, যদিও উলভসের বিপরীতে তাদের একটি গেম বাকি রয়েছে। এই ফলাফলগুলো দেখায় যে কিছু দল প্রথম অর্ধে শক্তিশালী হলেও, দ্বিতীয় অর্ধে তাদের গতি কমে যায়, আর কিছু দল দ্বিতীয় অর্ধে বেশি কার্যকরী হয়।
ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায় যে দ্বিতীয় অর্ধে ভাল পারফরম্যান্স করা দলগুলোর গড় বয়স প্রথম অর্ধে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর তুলনায় কম। দ্বিতীয় অর্ধের শীর্ষ দশ দলের গড় বয়স ২৬ বছর ৯১ দিন, যেখানে নিচের দশ দলের গড় বয়স ২৬ বছর ৩১৫ দিন, অর্থাৎ প্রায় ২২৪ দিনের পার্থক্য। এই তথ্য থেকে অনুমান করা যায় যে তরুণ খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা দ্বিতীয় অর্ধে বেশি কাজে লাগতে পারে।
প্রতিটি দলের অর্ধ-সময় পারফরম্যান্সের এই সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ কেবল ভক্তদের জন্য নয়, কোচ এবং বিশ্লেষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। ম্যাচের কৌশল নির্ধারণে প্রথম অর্ধে আক্রমণাত্মক খেলা এবং দ্বিতীয় অর্ধে রক্ষণশীলতা বজায় রাখার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, প্রিমিয়ার লীগে প্রচলিত লিগ টেবিলের পাশাপাশি অর্ধ-সময় এবং দ্বিতীয় অর্ধের ভিত্তিতে তৈরি টেবিলগুলো দলগুলোর শক্তি এবং দুর্বলতা উন্মোচন করে। এই বিকল্প টেবিলগুলো দেখায় যে আর্সেনাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলগুলো প্রথম অর্ধে শীর্ষে থাকলেও, দ্বিতীয় অর্ধে তাদের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। একইভাবে, অ্যাস্টন ভিলা এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলগুলো প্রথম অর্ধে মাঝারি র্যাঙ্কে থাকলেও, দ্বিতীয় অর্ধে তাদের পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য দেখা যায়।
এই বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে দলগুলোকে তাদের গেম প্ল্যান পুনর্বিবেচনা করতে এবং অর্ধ-সময় ভিত্তিক পারফরম্যান্সকে উন্নত করার জন্য প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।



