শুক্রবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের নির্দেশে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ দুইটি টিম নিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং টোল প্লাজা পরিদর্শন করেন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল এক্সপ্রেসওয়ের যানজট হ্রাস করা এবং যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করা।
পরিদর্শন দলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়; একটি টিম তেজগাঁও প্রান্তে এবং অন্যটি বিমানবন্দর এলাকার টোল প্লাজা ও সড়ক অংশে কাজ করে। উভয় টিমই রাস্তায় চলমান যানবাহনের প্রবাহ, টোল সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে।
সচিব রউফ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের যাতায়াতকে বাধাহীন রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করছেন এবং কোনো ধরণের অব্যবস্থাপনা বা দীর্ঘমেয়াদী যানজট সহ্য করা হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে নগরবাসীর সময় বাঁচানোর জন্য নির্মিত এবং এর সুষ্ঠু পরিচালনা সরকারী অগ্রাধিকারের অংশ।
রউফ আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শহরের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিবহন মাধ্যম এবং এর সেবা মান উন্নয়নে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। তিনি টোল প্লাজা ও সড়কের অবস্থা নিয়ে সন্তোষজনক মন্তব্য করেন, তবে কিছু স্থানে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ, পরিচালক (ওএন্ডএম) ও প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস, প্রকল্প পরিচালক এইচএমএস আকতার, অতিরিক্ত পরিচালক (পিএন্ডডি) ওয়ালীউল হাসান এবং ফাস্ট ঢাকা এলিভেটেড কোম্পানির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সকল উপস্থিত কর্মকর্তা একসাথে রাস্তায় চলমান সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনের সময় টোল প্লাজার কর্মক্ষমতা, সিগন্যাল সিস্টেমের কার্যকারিতা এবং রাস্তায় গাড়ির গতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। রউফের টিম কিছু টোল বুথে ক্যাশ সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেয়। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীকে নির্দিষ্ট সময়ে পেভমেন্টের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
টিমের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ টোল প্লাজা সুষ্ঠুভাবে কাজ করছে, তবে কিছু সময়ে গাড়ি গুলিয়ে যাওয়া এবং টোল সংগ্রহে বিলম্বের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। রউফ উল্লেখ করেন, এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য তদারকি কমিটি গঠন করা হবে এবং নিয়মিত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে।
সেতু সচিবের এই তৎপরতা সরকারী পর্যায়ে নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর নির্দেশে এই ধরনের পরিদর্শন ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পরিদর্শনের পর রউফ ও তার টিম এক্সপ্রেসওয়ের সেবা মান বাড়াতে অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেন। এতে রাস্তায় নিয়মিত পেভমেন্ট পরীক্ষা, সিগন্যাল সিস্টেমের আপডেট এবং টোল প্লাজার কর্মী প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনা এবং ট্রাফিক জ্যাম কমিয়ে আনার লক্ষ্য স্পষ্ট। সরকারী কর্মকর্তারা একসাথে কাজ করে এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও দ্রুত পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অবশেষে, রউফ উল্লেখ করেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শহরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং এর সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে আরও পর্যবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়ের সেবা মানকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হবে।



