রানজি ট্রফি ফাইনালের শেষ ম্যাচটি ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দিন ধরে উত্তর কর্ণাটকের হাববল্লি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় টুর্নামেন্টের শিরোপা দৌড়াবে কর্ণাটক ও জম্মু ও কাশ্মীরের দল।
আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হয়নি, তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে হাববল্লি চূড়ান্তের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (KSCA) হাববল্লি ও বেঙ্গালুরু উভয় স্থানে ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ পেয়েছিল। তবে বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাসওয়ামী স্টেডিয়াম বর্তমানে নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ কমিটি ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুপারিশ অনুসারে স্টেডিয়ামের গেট, প্রবেশদ্বার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্ত করা হচ্ছে। এই কাজগুলো চলমান থাকায় দর্শকদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
KSCA একটি প্রকাশনায় উল্লেখ করেছে, বর্তমান নির্মাণ কাজের ফলে উচ্চমানের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা এবং দর্শক সুবিধা প্রদান করা সম্ভব নয়, যা রানজি ট্রফি ফাইনালের মতো বড় ইভেন্টের জন্য অপরিহার্য।
দশেম্বর ২০২৫-এ নির্বাচিত নতুন KSCA ব্যবস্থাপনা কমিটি, প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও KSCA সভাপতি ভেঙ্কটেশ প্রসাদের নেতৃত্বে, তাদের ম্যানিফেস্টোর অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন মফুসিল (মহানগর) এলাকায় প্রধান দেশীয় ও জাতীয় ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
এই নীতি অনুসারে কর্ণাটকের বাইরের শহরে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানো, স্থানীয় ভক্তদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং বেঙ্গালুরুর বাইরে ক্রীড়া পরিকাঠামো শক্তিশালী করা লক্ষ্য।
বিস্তৃত পর্যালোচনা এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের পর, KSCA হাববল্লিকে চূড়ান্তের স্থান হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি কেবল লজিস্টিক্যাল নয়, কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও গ্রহণ করা হয়েছে।
ফাইনালের দলীয় তালিকা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চূড়ান্ত হয়। কর্ণাটক উট্রাখণ্ডের সঙ্গে সমান স্কোরে ড্র করে, তবে প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে অগ্রসর হয়েছে।
অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীর পূর্বে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ফাইনালের আরেকটি সিট নিশ্চিত করেছে। উভয় দলের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
হাববল্লির KSCA গ্রাউন্ডে ম্যাচের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের সিটিং, পিচের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
ফাইনালটি ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি দুই দিন ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে, এবং বিজয়ী দলকে রানজি ট্রফি ট্রফি উপহার দেওয়া হবে। উভয় দলই শিরোপা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।
এই ম্যাচটি কর্ণাটকের মফুসিল শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় ভক্তদের জন্য একটি বড় উৎসবের মতো হবে। হাববল্লির বাসিন্দা ও আশেপাশের মানুষ ক্রিকেটের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রানজি ট্রফি ফাইনালের এই স্থানান্তর কেবল একটি লজিস্টিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং কর্ণাটকের ক্রিকেটের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সংকেত। ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মফুসিল শহরে আয়োজনের সম্ভাবনা বাড়বে।



