23 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের...

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার একটি আদেশ জারি করে, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনার জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কমিটির প্রধান হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড‑১) নিযুক্ত করা হয়েছে, যিনি সমগ্র প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন। কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রেস‑১) রয়েছেন। বাকি দুই সদস্য হলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

কমিটিকে আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করবে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাবে। তদন্তের ফলাফল ও সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই কমিটির গঠনকে পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের প্রতি সরকারের দ্রুত সাড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলোতে বলা হয়েছে, সংস্থার আর্থিক লেনদেন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কিছু বিষয় অনিয়মের শঙ্কা সৃষ্টি করেছে, যদিও এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিএসএসের রাজধানী পল্টন শাখায় বুধবার দুপুরে একটি প্রতিবাদে পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে। সংস্থার কর্মী ও সাংবাদিকদের একটি গোষ্ঠী এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে, তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে। প্রতিবাদকারীরা সংস্থার অভ্যন্তরে তার উপস্থিতি প্রত্যাখ্যান করে এবং তার পদত্যাগের দাবি তোলেন। এই ঘটনার পর মাহবুব অফিস ত্যাগ করেন।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কিছু কর্মী ও সাংবাদিকের মতে, সংস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, মাহবুব মোর্শেদ সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, তিনি interim সরকারে দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি ‘মব’ তৈরি করে তার অপসারণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং তার কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো ভিত্তি নেই।

মাহবুব মোর্শেদ ১৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে, ২৪ মার্চের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর, দুই বছরের মেয়াদে বিএসএসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তার এই নিয়োগের সময়কাল এবং পদে থাকা অবস্থায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সংস্থার স্বায়ত্তশাসন ও মিডিয়া স্বাধীনতার ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

কমিটির কাজের পরিধি ও সময়সীমা নির্ধারিত হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য এখন স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। যদি তদন্তে কোনো অবৈধতা বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। অন্যদিকে, যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তবে সংস্থার অভ্যন্তরে পুনরায় বিশ্বাস স্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই তদন্তের ফলাফল দেশের মিডিয়া নীতি ও সংস্থার পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, সরকার কীভাবে মিডিয়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করবে এবং একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগের যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

বিএসএসের কর্মী ও সাংবাদিকদের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা, সরকারের তদন্তের প্রতিশ্রুতি এবং মাহবুব মোর্শেদের নিজের বক্তব্য একত্রে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments