ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ৯১তম রানজি ট্রফি ফাইনালের স্থান নির্ধারিত হয়েছে কর্ণাটকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হুবলি। ফাইনালটি ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই দল – কর্ণাটক ও জাম্মু ও কাশ্মীর – একে অপরের মুখোমুখি হবে।
হুবলির স্টেডিয়াম, যা KSCA হুবলি ক্রিকেট গ্রাউন্ড নামে পরিচিত, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু হিসেবে ঘোষিত হয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভিত্তিতে শহরটি চূড়ান্ত ম্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ভেন্যুর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আজকের শেষের দিকে প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।
কর্ণাটক ও জাম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে ফাইনালটি ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং দুই দিনের মধ্যে সমাপ্ত হবে। উভয় দলই এই সিজনের শীর্ষ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফাইনালে পৌঁছেছে, যা দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ডোমেস্টিক টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্যায়।
কর্ণাটকের ফাইনাল রোস্টার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চূড়ান্ত হয়, যখন তারা উত্তরের উট্রাখণ্ডের সঙ্গে ড্র করে এবং প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে অগ্রসর হয়। এই ফলাফল দলকে ফাইনালের জন্য নিশ্চিত করে এবং তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, জাম্মু ও কাশ্মীরের ফাইনাল যাত্রা বুধবার ক্যালিয়ানিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ হয়। তারা বেঙ্গলকে ছয় উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত করে সরাসরি ফাইনালের সিট নিশ্চিত করে, যা তাদের প্রথমবারের মতো এই পর্যায়ে পৌঁছানোর চিহ্ন।
রানজি ট্রফির ইতিহাসে এই ফাইনালটি ৯১তম হিসেবে চিহ্নিত, এবং কর্ণাটক ইতিমধ্যে ১৫ বার চূড়ান্তে অংশগ্রহণ করেছে। এই দলটি মোট আটটি শিরোপা জিতেছে, যা তাদেরকে দেশের শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর মধ্যে একটি করে তুলেছে।
কর্ণাটকের শেষ ফাইনাল উপস্থিতি ২০১৫ সালে ছিল, যখন তারা তামিলনাড়ুকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল। সেই জয়টি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল এবং এখনো স্মরণীয়।
কর্ণাটক ও জাম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে মোট চারটি মুখোমুখি ম্যাচ হয়েছে, এবং কর্ণাটক সবগুলোই জিতেছে। এই রেকর্ডটি দুই দলের মধ্যে অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তুলে ধরে এবং ফাইনালের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
সর্বশেষ মুখোমুখি ম্যাচটি ২০২২ সালে চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে কর্ণাটক আবারও জয়লাভ করে। সেই ম্যাচের ফলাফল দুই দলের মধ্যে কর্ণাটকের আধিপত্যকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
হুবলির স্টেডিয়াম, KSCA হুবলি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, এই মৌসুমে কর্ণাটকের লিগ ম্যাচের আয়োজক হিসেবে কাজ করেছে। সেখানে কর্ণাটক চ্যান্ডিগড়ের বিরুদ্ধে ১৮৫ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে, যা স্টেডিয়ামের গেমিং পরিবেশের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
এই জয়টি হুবলির মাঠে কর্ণাটকের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ফাইনালের জন্য তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়। স্টেডিয়ামের আধুনিক সুবিধা ও উত্সাহজনক পরিবেশ দলকে বাড়তি সুবিধা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফাইনাল ম্যাচের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এবং উভয় দলই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে মনোযোগী। ভক্তদেরও বড় প্রত্যাশা রয়েছে, কারণ রানজি ট্রফি দেশের ক্রিকেটের গর্ব এবং এই চূড়ান্ত ম্যাচটি শীর্ষ স্তরের প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হবে।



