কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমীন উর রশীদ আগামী বারো মাসের মধ্যে শিল্পমুখী কৃষিপণ্যের রপ্তানি চালু করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়িয়ে বাণিজ্যিক ভারসাম্য শক্তিশালী করা হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে যে, কৃষি দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং বৃহৎ জনগোষ্ঠী এই খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।
মন্ত্রীর মতে, পরিকল্পিত রপ্তানি উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, অবকাঠামো এবং বাজার প্রবেশের ব্যবস্থা দ্রুত গড়ে তোলা হবে। তিনি সব সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, যাতে রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন করা যায়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় মন্ত্রী এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াবে এবং কৃষক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের আয় বাড়াবে।
মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যিনি কৃষি খাতের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়াঁ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা পরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
অনুষ্ঠানের পূর্বে নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্মানসূচক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সমর্থনকে প্রকাশ করে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, শিল্পমুখী রপ্তানি উদ্যোগ দেশের রপ্তানি পোর্টফোলিওতে নতুন পণ্য যোগ করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াবে। বিশেষ করে প্যাকেজড ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য উন্নত হবে, যা বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে দেশের মুদ্রা সঞ্চয় বাড়াবে। একই সঙ্গে, রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য নিশ্চিত হবে, যা একক বাজারের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করবে।
প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, লজিস্টিক্স এবং রপ্তানি সংক্রান্ত সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ধরনের শিল্পকেন্দ্রিক কার্যক্রম গ্রামীণ এলাকায় আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করবে।
তবে পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে অবকাঠামো উন্নয়ন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যের ওপর। রপ্তানি বাজারে প্রবেশের জন্য সার্টিফিকেশন, লজিস্টিক্স নেটওয়ার্ক এবং মূল্য প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, কৃষি পণ্যের দাম পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নীতি পরিবর্তনের ঝুঁকি রপ্তানি পরিকল্পনার স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারী সমর্থন এবং বীমা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
স্বল্পমেয়াদে রপ্তানি পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে, কারণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগবে। মন্ত্রীর দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করে লক্ষ্য অর্জনের পথে অগ্রগতি নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, কৃষি খাতকে শিল্পমুখী রপ্তানি মডেলে রূপান্তর করা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য নীতি, অবকাঠামো, গুণমান এবং বাজার প্রবেশের সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সমগ্র সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব হবে।



