23 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসালাহউদ্দিন আহমদকে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে অপহরণ ও ভারতে পাচার

সালাহউদ্দিন আহমদকে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে অপহরণ ও ভারতে পাচার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ করে পরে ভারতে পাচার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অপারেশনটি জিয়াউল আহসানের নির্দেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকাশনা দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।

প্রকাশিত তথ্যানুসারে, সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রথমে গোপনীয়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক দিন পর তাকে সীমান্ত পার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণে ব্যবহৃত গাড়ি ও রুটের বিশদ তথ্য এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে। ভিকটিমের পরিবার এই ঘটনার পর দ্রুত আইনি সহায়তা চেয়েছে।

ভারতে পৌঁছানোর পর আহমদকে বিভিন্ন স্থানে গোপনীয়ভাবে রাখা হয় এবং তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানকে এই অপহরণ ও পাচার পরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাজুল ইসলাম জানান, জিয়াউল আহসান এই কাজের জন্য একাধিক সহায়ককে নিয়োগ করে গোপনীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও, বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ আটজন রাজনৈতিক কর্মীকে গুম করার দায়িত্বও জিয়াউল আহসানের তত্ত্বাবধানে ছিল। এই গুমের ঘটনাগুলি একাধিক জেলা ও শহরে সমন্বিতভাবে ঘটেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও সময়সীমা সমানভাবে গোপনীয় রাখা হয়েছে।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইলিয়াস আলীও অন্তর্ভুক্ত, যিনি গুমের পরপরই নিহত হয়েছেন। এছাড়াও শিবিরের নেতা গোলাম কিবরিয়া মিহিন, হাফেজ জাকির এবং চৌধুরী আলমের নামও তালিকায় রয়েছে, যাদের নিখোঁজ হওয়া ব্যাপক উদ্বেগের কারণ। প্রতিটি মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ বর্তমানে চলমান।

ইলিয়াস আলীর মৃত্যু সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, গুমের পরপরই তাকে হিংসাত্মকভাবে হত্যা করা হয়। মৃতদেহের অবস্থান ও মৃত্যুর কারণ এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে। পরিবার ও সহকর্মীরা ন্যায়বিচার দাবি করে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গোলাম কিবরিয়া মিহিন, হাফেজ জাকির এবং চৌধুরী আলমের গুমের পেছনে একই পরিকল্পনাকারী জিয়াউল আহসানকে দায়ী করা হয়েছে। এই তিনজনের পরিবারও একই সময়ে অনুপস্থিতি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা একসাথে এই মামলাগুলোর উপর ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধের পরিসর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে ডিজিটাল ফরেনসিক্স ও সাক্ষী বিবৃতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তদন্তের ফলাফল শীঘ্রই আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

প্রসিকিউশন দল জিয়াউল আহসানকে অপরাধের প্রধান দায়িত্বশীল হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি চাচ্ছে। একই সঙ্গে গুম ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহায়কদেরও আইনি দায়িত্ব আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ের অপেক্ষায় ভিকটিমের পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থা সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ধরনের গুম ও অপহরণ মামলায় সংবেদনশীলতা বজায় রেখে তথ্য প্রকাশ করা জরুরি, যাতে ভিকটিমের গোপনীয়তা রক্ষা পায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া দেশের আইনি শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments