23 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাশিক্ষামন্ত্রী মিলন তিনটি শিক্ষার অগ্রাধিকার ও নীতি ঘোষণা

শিক্ষামন্ত্রী মিলন তিনটি শিক্ষার অগ্রাধিকার ও নীতি ঘোষণা

নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার সরকারী সচিবালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সামনে তিনটি মূল অগ্রাধিকার প্রকাশ করেন। প্রথম অগ্রাধিকার হল শিক্ষার্থীদের পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গঠন, দ্বিতীয়টি হল জাতীয় পাঠ্যক্রমের ব্যাপক পর্যালোচনা, আর তৃতীয়টি হল কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার আধুনিকীকরণ।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নতুন সরকারের শিক্ষার জন্য নির্ধারিত বারোটি পরিকল্পনা উল্লেখ করেন, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনাগুলোতে শিক্ষার প্রবেশগম্যতা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

মিলন একই সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন, ফলে তিনি একসঙ্গে দুইটি মন্ত্রণালয়ের কাজ তত্ত্বাবধান করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনেই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে পুনরায় মতবিনিময় করেন, যেখানে তিনি পূর্বে নকলবিরোধী ক্যাম্পেইনের প্রশংসা পেয়ে গর্ব প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযান চালানোর প্রয়োজন নেই বলে আশ্বাস দেন।

একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি উল্লেখ করেন, “একসময় দেশে মব (মেডিকেল বডি) ছিল, শিক্ষার্থীরা অটোপাসের দিকে ঝুঁকত। এখন আমরা সেই সংস্কৃতিকে বদলে দিতে চাই।” তিনি শিক্ষকদের চাহিদা পূরণে সরকারই দায়িত্ব নেবে, ফলে আর কোনো ধর্মঘট বা রোড ব্লকেজের প্রয়োজন থাকবে না, এ কথাও জোর দিয়ে বলেন।

শিক্ষককে ‘মানব গড়ার কারিগর’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিক্ষকরা যদি শিক্ষাদান ছাড়াও আন্দোলন চালায়, তা স্বাভাবিক নয়। তাদের দাবি-দাওয়া আমরা যথাযথভাবে বিবেচনা করব, তবে জনসাধারণের পথে বাধা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।”

দুর্নীতি রোধে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি একটি মোবাইল অ্যাপ চালুর কথা জানান। এই অ্যাপের মাধ্যমে বদলি মেধা ভিত্তিক হবে, কোনো অনিয়মের সুযোগ থাকবে না এবং সব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে।

এছাড়া, এমপিও (মার্জিনাল পারসোনেল অবসার্ভেশন) অন্তর্ভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াটিও দ্রুত সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সিস্টেমে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা তৎক্ষণাৎ সমাধান করা হবে, এ কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন।

ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনার জন্য পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনিবন্ধিত বা অস্থায়ী অবকাঠামোতে পরিচালিত স্কুলগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না, ফলে শিক্ষার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

বিবি হাজ্জাজ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, একই সভায় উপস্থিত থেকে সরকারের শিক্ষানীতির দিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “শিক্ষা ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সংস্কারই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল চাবিকাঠি।” তিনি মিলনের ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানান।

মিলন জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসা সহজ করতে স্কুল-কলেজগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, পাঠ্যক্রমের পুনর্বিবেচনা করে বিষয়বস্তুকে আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

কারিগরি শিক্ষার আধুনিকীকরণে নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, শিল্প সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং ডিজিটাল ল্যাবের ব্যবস্থা করা হবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বেকারত্ব কমিয়ে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

শেষে মিলন শিক্ষকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ দেন: “আপনার কোনো দাবি বা সমস্যার ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষা বিভাগের হেল্পলাইন অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করুন। আপনার মতামত নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments