পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় টিসিবি (ট্রেডিং ও সাপ্লাই চেইন বোর্ড) কর্তৃক সরবরাহিত ভোজ্যতেলের ৯টি বোতলে পানি পাওয়া যাওয়ায় সম্পূর্ণ চালান গুদামে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গত বুধবার বিকেলে বোদা উপজেলা খাদ্যগুদামে ঘটেছে, যেখানে টিসিবি কার্ডধারী গ্রাহকদের জন্য ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও ছোলা সংরক্ষণ করা হতো।
গুদামে পৌঁছানো শিপমেন্টটি মেসার্স আনোয়ারা ট্রেডার্সের মাধ্যমে পরিবহন টিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। গুদামের তালিকায় ১৪ কেজি মসুর ডাল, ৭ কেজি চিনি, ৫৫৭ কেজি ছোলা এবং মোট ৮,০১৪ লিটার ভোজ্যতেল অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভোজ্যতেল ৪৪৫টি কার্টনে প্যাক করা ছিল; প্রতিটি কার্টনে দুই লিটার ওজনের নয়টি বোতল এবং অতিরিক্ত দুইটি বোতল কার্টনের বাইরে রাখা ছিল।
খাদ্যগুদামের কর্মীরা যখন শিপমেন্টের ওজন পরিমাপ করছিলেন, তখন একটি কার্টনের ওজন অস্বাভাবিকভাবে কম দেখায়। সন্দেহের ভিত্তিতে তারা কার্টনটি খুলে দেখেন, যেখানে আটটি পুরোনো তেলের বোতলে পানি এবং একটি পানির বোতল মিশ্রিত ছিল। অবিলম্বে বিষয়টি গুদামের নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানানো হয় এবং শিপমেন্টের বাকি অংশ টিসিবি গুদামে ফেরত পাঠানো হয়।
টিসিবি গুদাম থেকে গন্তব্যে পণ্য পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় পরিবহন টিকাদার প্রতিষ্ঠানের ট্রাকচালককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গুদাম ও টিসিবি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ট্রাকচালক ময়নুল ইসলাম এই অনিয়মের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মুখে। গুদাম কর্মকর্তার মতে, গুদাম থেকে সঠিকভাবে পণ্য পাঠানো হলেও, পথে ট্রাকচালকই পানির বোতল যুক্ত করে শিপমেন্টকে বিকৃত করেছে।
এই ঘটনার ব্যবসায়িক প্রভাব স্পষ্ট। টিসিবি ভোজ্যতেল সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গৃহস্থালীর চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; একবারের শিপমেন্টে ৮,০১৪ লিটার তেল প্রত্যাশিত ছিল, যা সরাসরি বাজারে সরবরাহের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। শিপমেন্টের প্রত্যাবর্তন মানে গুদামে তেলের স্টক হ্রাস পাবে, ফলে স্থানীয় বিক্রেতা ও গ্রাহকদের কাছে তেল সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে। এই ধরনের ব্যাঘাত দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে, বিশেষ করে মৌসুমী চাহিদা বৃদ্ধি পেলে।
অতিরিক্তভাবে, টিসিবি গুদাম থেকে ডাল, চিনি ও ছোলার মতো মৌলিক পণ্যের সরবরাহেও সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এই পণ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, তবে টিসিবি সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকদের জন্য প্রত্যেকটি শিপমেন্টের সঠিকতা গুরুত্বপূর্ণ। শিপমেন্টের পুনরায় গুদামে ফেরত পাঠানো মানে গুদামকে পুনরায় প্যাকিং ও পুনর্বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, যা লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, টিসিবি সরবরাহ শৃঙ্খলে এই ধরনের দুর্বলতা পুনরাবৃত্তি না হলে, সরকারী তহবিলের ব্যবহার ও তহবিলের স্বচ্ছতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে। তদুপরি, পরিবহন টিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি শক্তিশালী না হলে, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
টিসিবি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট টিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। একই সঙ্গে গুদাম কর্মীদের সতর্কতা বৃদ্ধি ও পণ্যের গুণগত মান যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা টিসিবি সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বল লিঙ্ককে উন্মোচিত করেছে, যা লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা, গুদাম নিরাপত্তা এবং টিকাদার নিয়ন্ত্রণে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। শিপমেন্টের দ্রুত পুনরুদ্ধার ও পুনঃসরবরাহ নিশ্চিত করা হলে, বাজারে তেলের ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি রোধে সহায়তা করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টিসিবি ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি না হলে, সরবরাহের অস্থিরতা ও গ্রাহকের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে।



