ইংরেজি ফুটবলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জেমস মিলনার প্রিমিয়ার লীগে ৬৫৪তম ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তাকে লিগের উপস্থিতি রেকর্ডের কাছাকাছি নিয়ে যাবে। তার দীর্ঘায়ু এবং ধারাবাহিকতা আজকের ক্রীড়া জগতে বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
লিডসের তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম দলে ওঠার সময় মিলনারের পরিবর্তনটি সহজে ঘটেনি না। স্কুল থেকে সরাসরি প্রথম দলে যাওয়ার চ্যালেঞ্জটি তিনি স্বাভাবিকভাবে মোকাবেলা করেন, কোনো ধাক্কা না দিয়ে। সেই সময়ের লিডসের মেন্টরিং স্কিমে তিনি হ্যারি কিউয়েল এবং আরন লেননসহ অন্যান্য তরুণদের সঙ্গে রুম শেয়ার করতেন, যা তার পেশাদারিত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।
সহকর্মীরা উল্লেখ করেন, মিলনারের স্বভাব শান্ত এবং আলোচনার বাইরে থাকতে পছন্দ করেন। তিনি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না চাইলেও, তার কাজই তার কথা বলে। দলের পার্টিতে অন্যরা বিয়ার পান করলেও, মিলনার রিবেনা টুথকিন্ড পান করে, যা তার অ্যালকোহলমুক্ত জীবনধারার প্রমাণ।
মিলনারের পরিবার তাকে বহুমুখী ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তার বাবা-মা তাকে ফুটবলের বাইরে অন্যান্য আগ্রহ অনুসরণে উৎসাহিত করতেন। তিনি এক সময় চমৎকার ক্রিকেটার ছিলেন এবং লিডসের পুরনো ক্রিকেট ক্লাবে এখনও যুক্ত থাকার কথা জানা যায়।
ফুটবলে তার বুদ্ধিমত্তা এবং গেমের গভীর বিশ্লেষণ ক্ষমতা তাকে বিভিন্ন পজিশনে সফল করে তুলেছে। বিভিন্ন কোচের অধীনে তিনি ডিফেন্স, মিডফিল্ড এবং আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করেছেন, যা তার বহুমুখিতা এবং ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা প্রদর্শন করে।
আধুনিক ফুটবলে প্রায়ই রোবোটিক খেলা দেখা যায়, তবে মিলনারের স্বতন্ত্র চিন্তাভাবনা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা তাকে আলাদা করে। তিনি নিজের সিদ্ধান্তে খেলা গড়ে তোলেন এবং প্রয়োজনমতো পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এই গুণ তাকে তরুণ খেলোয়াড়দের থেকে আলাদা করে।
রক্ষার দিকেও মিলনারের অবদান উল্লেখযোগ্য। মাঠে না থাকলেও তার পজিশনিং এবং ব্যাকট্র্যাকিং দক্ষতা প্রশংসনীয়। তিনি স্বীকার করেন, পিটার রিডের তত্ত্বাবধানে নিজের ব্যাকট্র্যাকিং উন্নত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
কয়েক দশক পরেও মিলনার এখনও সক্রিয়ভাবে মাঠে উপস্থিত, যা তার শারীরিক এবং মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ। তার দীর্ঘায়ু এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ক্রীড়া জগতে এক বিরল উদাহরণ।
প্রিমিয়ার লীগে তার ৬৫৪তম উপস্থিতি নিকটবর্তী হওয়ায়, মিলনারের ক্যারিয়ারকে নতুন মাইলফলক অর্জনের পথে দেখা যাচ্ছে। এই মাইলফলক তার পেশাদারিত্বের দীর্ঘ ইতিহাসের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা হতে পারে।
মিলনারের সহকর্মীরা তার কাজের নীতি এবং ব্যক্তিগত গুণাবলীকে প্রশংসা করে, যা তাকে কেবল একজন খেলোয়াড় নয়, বরং একটি আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে। তার গল্প তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
লিডসের তরুণদের জন্য তার মেন্টরিং অভিজ্ঞতা এবং তার নিজের উদাহরণ ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।
যে কোনো সময়ে, জেমস মিলনারের উপস্থিতি এবং পারফরম্যান্স প্রিমিয়ার লীগে তার স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে, এবং তার রেকর্ডের কাছাকাছি হওয়া এই ধারাবাহিকতা ক্রীড়া ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে।



