23 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর সেলাহুদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে ৭৯ বছর বয়সে পরলোক গমন

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর সেলাহুদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে ৭৯ বছর বয়সে পরলোক গমন

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর ও ব্র্যাকের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সেলাহুদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা গ্রহণের সময় ৭৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করেছেন। তার মৃত্যু আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় নিশ্চিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্র্যাক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে তিনি দেশের উন্নয়ন ক্ষেত্রকে শোকাহত করেছেন।

মৃত্যুর পর তার স্ত্রী, দুই কন্যা এবং বহু শুভেচ্ছুকের দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্তরে শোকের বার্তা পাঠানো হয়েছে।

সেলাহুদ্দিন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রাক্তন ম্যানেজিং এডিটর হিসেবেও কাজ করেছেন। সংবাদমাধ্যমে তার নেতৃত্বের সময়ে প্রকাশিত বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন দেশের তথ্যপ্রবাহে ভূমিকা রেখেছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে পরবর্তীতে উন্নয়ন নীতি গঠনে সহায়তা করেছে।

১৯৭৮ সালে ইউক্রেনে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং পরিকল্পনা কমিশনে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরিকল্পনা কমিশনে তার কাজ দেশের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে সহায়ক ছিল।

১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল তিনি ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত হন এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের পদে নিযুক্ত হন। এই পদে তিনি সংস্থার প্রাথমিক কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ব্র্যাকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০৪ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যেখানে তিনি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করেন। তার নেতৃত্বে ব্র্যাকের দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষা সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত অগ্রসর হয়।

২০০৫ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো ও গবেষণা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। পাশাপাশি তিনি ব্র্যাকের জেনারেল বডির সদস্য হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।

ব্র্যাকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সংস্থার পক্ষ থেকে শোকের প্রকাশনা প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “এই কঠিন সময়ে আমরা তার পরিবার, সহকর্মী ও শুভেচ্ছুকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” সংস্থার এই প্রকাশনা তার কর্মজীবনের মূল্যকে পুনরায় তুলে ধরেছে।

ব্র্যাক উল্লেখ করেছে, সেলাহুদ্দিন আহমেদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন চিন্তা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং শিক্ষার বিস্তারে অবদান দেশের সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে। তার নীতি ও পরিকল্পনা আজও বহু প্রকল্পে প্রয়োগ হচ্ছে।

সংস্থার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ পেশাদার সম্পর্ক ব্র্যাকের যাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছে। দুজনের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি সংস্থার মিশনকে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সেলাহুদ্দিন আহমেদের কর্মজীবনকে স্মরণ করে বহু সহকর্মী ও শিক্ষার্থী তার নৈতিকতা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি সর্বদা ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই গুণাবলী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস।

তার মৃত্যু দেশের উন্নয়ন ক্ষেত্রের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার কাজ ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা যায়।

পাঠকবৃন্দের জন্য একটি ব্যবহারিক প্রশ্ন: আপনার কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষার পরিবেশে সেলাহুদ্দিন আহমেদের মতো নৈতিক নেতৃত্ব কীভাবে গড়ে তুলতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তর আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments