গৃহস্থালী সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। ১৫ সদস্যের এই কমিটি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে নির্ধারিত করেছে এবং ঈদুল‑ফিতরের আগে কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত কাজের নির্দেশ দিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনস্থ কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে প্রাপ্ত নির্দেশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং তা সরকারী নথি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এই নথি অনুযায়ী, কমিটির কাজের পরিধি, সদস্যবৃন্দ এবং সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
কমিটির প্রধান সদস্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করা হয়েছে। তার পাশাপাশি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ইত্যাদি ১৪ জন সদস্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির সদস্য তালিকায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব অন্তর্ভুক্ত। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখানে ‘সচিব’ শব্দে সিনিয়র সচিবদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক দক্ষতা কাজে লাগবে।
কমিটি ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি ঈদুল‑ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ডের বিতরণ পরিকল্পনা, প্রাথমিক ডিজাইন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করবে।
কমিটির কাজের মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ডের উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন, সুবিধাভোগী নির্ধারণের স্বচ্ছ পদ্ধতি গঠন এবং দেশের আটটি বিভাগে প্রতিটি উপজেলায় একটিমাত্র পাইলট প্রকল্প চালু করা। এছাড়া, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্যান্য কল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যবহার করা যায় কিনা তা পর্যালোচনা করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও National Household Database এর আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা (MIS) গড়ে তোলার সুপারিশ করা হবে।
প্রস্তাবিত ডিজিটাল MIS এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীর ডাটাবেস তৈরি করে ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক সেবা সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে শক্তিশালী করে সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
প্রতিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সামাজিক ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে। তবে, বাস্তবায়নের সময় সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, যেমন ডাটাবেসের সঠিকতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা, নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিটির কাজের ফলাফল যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রস্তুত হয় এবং সরকার তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে, তবে গৃহস্থালী কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে। সরকার এই উদ্যোগকে দেশের দরিদ্র ও দুর্বল গোষ্ঠীর আর্থিক স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প সফল হলে, তা দেশের অন্যান্য সামাজিক সেবা প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তৃত স্কেলে চালু করা হতে পারে। এভাবে, বাংলাদেশ সরকার গৃহস্থালী কল্যাণের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।



