রোজার প্রথম দিনেই ঢাকার বেইলি রোডে ইফতার বিক্রির গুঞ্জন শোনা গেল, যেখানে বিভিন্ন ধরণের খাবার ও মিষ্টি বিক্রির জন্য স্টলগুলো সাজানো ছিল। ঐতিহ্যবাহী খাবার থেকে শুরু করে ফাস্ট‑ফুড পর্যন্ত বিস্তৃত পণ্য গ্রাহকদের আকর্ষণ করছিল।
স্টলগুলোতে পেঁয়াজু, বেগুনি, হালিম, আলু চপ, ছোলা, বুন্দিয়া, কাবাব, জিলাপি সহ থাই স্পাইসি চিকেন, চিকেন সসালিক, চিকেন শর্মা, চিকেন বল, চিকেন ললিপপ, চিকেন ডমেস্টিক এবং ফিশ নাগেটের মতো আধুনিক ফাস্ট‑ফুড আইটেমও পাওয়া যাচ্ছিল।
মিষ্টির দিকেও বৈচিত্র্য দেখা গিয়েছিল; ফিরনি, গাজরের ফিরনি, মাহালাবিয়া, পাটি সাপটা এবং দই বড়া সহ নানা রকমের মিষ্টি বিক্রি হচ্ছিল। দাম ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত, যা নিম্ন থেকে উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করছিল।
বেইলি রোডে চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করা আব্দুল লতিফ এখন নিজের দোকানের মালিক। তিনি আগে ফুটপাতে শাহী মামা পেঁয়াজি বিক্রি করতেন, যখন এই এলাকা এতটা ব্যস্ত ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দোকানকে আধুনিক রূপে রূপান্তরিত করে “শাহী মামা পেঁয়াজু” নামে পরিচিতি অর্জন করেন।
লতিফের মতে, রোজার মাসে তিনি সরাসরি চুলা থেকে গরম গরম খাবার গ্রাহকের সামনে পরিবেশন করেন, যাতে তারা তৎক্ষণাৎ গরম খাবার নিতে পারে। সারা বছর পেঁয়াজু, বেগুনি ও আলু চপের মতো স্ন্যাকস বিক্রি করলেও রোজা মাসে তিনি জিলাপি, চিকেন শর্মা, ফিরনি, হালিম, চিকেন রোল, পরোটা, সামুচা ও ছোলাসহ সব ধরনের ইফতারি পণ্য বিক্রি করেন।
তার মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বাঙালি ইফতারে ভাজা‑পোড়া খাবার ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে এবং তা বজায় রাখার জন্য বিক্রেতারা বিভিন্ন ধরণের তেলভিত্তিক পণ্য সরবরাহ করে চলেছেন। যদিও স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ক্ষতির কথা বলা হয়, তবে রোজার সময় এই ধরনের খাবারের চাহিদা অপরিবর্তিত থাকে।
মধ্যবিত্ত ও ধনী শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য শীতাতপ পানীয়ের স্টল এবং বেকারিরাও ইফতারি পণ্য বিক্রিতে যুক্ত হয়েছে। কেক, পেস্ট্রি ও অন্যান্য বেকারি পণ্য রোজার মাসে বিশেষ চাহিদা পায়, যা বাজারের বৈচিত্র্যকে বাড়িয়ে দেয়।
এ‑ওয়ান ফাস্টফুড, যা সারা বছর পশ্চিমা ধাঁচের খাবার সরবরাহ করে, রোজা মাসে কেবল ইফতারি পণ্য বিক্রিতে মনোনিবেশ করে। তারা থাই স্পাইসি চিকেন, চিকেন সসালিক, চিকেন শর্মা, চিকেন বল, চিকেন ললিপপ, চিকেন ডমেস্টিক এবং ফিশ নাগেটের মতো আইটেম সরবরাহ করে।
এ‑ওয়ান ফাস্টফুডের ব্যবস্থাপক জানান, গ্রাহকরা বাড়িতে রান্না না করে প্রস্তুত খাবার কিনতে পছন্দ করেন, তাই রোজা মাসে তারা এই ধরনের পণ্য সরবরাহ করে। অন্য সময়ে তাদের মেনু সাধারণ ফাস্টফুড আইটেমে সীমাবদ্ধ থাকে।
বাজারের এই প্রবণতা কর্মচারীর বেতন, দোকান ভাড়া এবং অন্যান্য খরচের চাপের সঙ্গে যুক্ত। রোজার সময় বিক্রয়ই অনেক ছোট ব্যবসার জন্য মূল আয় উৎস, যা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
একজন গ্রাহক আফরিন আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি এখানে নিয়মিত কেনাকাটা করেন এবং বুন্দিয়া ভুলে গিয়ে পরে তা সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, ফাস্টফুড আইটেমগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সহজ, তাই তিনি এখান থেকে কিনতে পছন্দ করেন।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, রোজার মাসে প্রস্তুত ইফতার পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা বিক্রেতাদের জন্য উচ্চ মুনাফার সুযোগ তৈরি করে। দাম ১০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় বিভিন্ন আয়ের স্তরের গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্য সচেতনতায় পরিবর্তন ভবিষ্যতে বাজারের গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রোজার সময় প্রস্তুত ইফতার পণ্যের বাজার আগামী বছরগুলোতে আরও সম্প্রসারিত হবে, বিশেষত ফাস্টফুড চেইনগুলো তাদের মেনুতে রোজা-নির্দিষ্ট আইটেম যুক্ত করবে। একই সঙ্গে, স্বাস্থ্য সচেতন গ্রাহকদের জন্য কম তেলভিত্তিক ও পুষ্টিকর বিকল্পের চাহিদা বাড়তে পারে, যা বিক্রেতাদের পণ্য রেঞ্জে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন সৃষ্টি করবে।



