24 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনতুন সরকারের আর্থিক নীতি গঠনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সতর্কতা ও সুপারিশ

নতুন সরকারের আর্থিক নীতি গঠনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সতর্কতা ও সুপারিশ

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে নতুন সরকারকে আর্থিক সংযমের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সরকারকে কোনো জনতুষ্টিবাদী পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নেই; বরং বাজেটের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

ভট্টাচার্য বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্রয় চুক্তিগুলো সম্পন্ন করেছে, সেগুলোর নিয়মবিধি অনুসরণ হয়েছে কিনা তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা জরুরি। এছাড়া, পূর্ব সরকার যে বৈদেশিক চুক্তিগুলো করেছে, সেগুলো শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বা বন্দর সংক্রান্ত নয়; অন্যান্য ক্ষেত্রেও চুক্তি হয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে জনসাধারণের জ্ঞান সীমিত। এসব চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা উচিত।

সিপিডির আরেকজন ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানও একই অনুষ্ঠানে মত প্রকাশ করেন, যদিও তার মন্তব্যের মূল বিষয় এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়নি। সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বিশ্লেষণকে সমর্থন করেন।

ভট্টাচার্য নতুন সরকারের জন্য একটি উত্তরণকালীন দল গঠনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এই দলের প্রাথমিক কাজ হবে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ময়নাতদন্ত করে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা। এই নথি ভিত্তিকভাবে সরকার বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে।

অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে সরকারকে মার্চের শেষের দিকে জাতীয় সংসদে একটি আর্থিক বিবৃতি উপস্থাপন করতে হবে। ২০০৯ সালে প্রণীত সরকারি আয়‑ব্যয় ও বাজেট ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশে আর্থিক বিবৃতির জন্য স্পষ্ট ধারা রয়েছে; এই বিবৃতি আর্থিক স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে।

ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে পারে, তবে কোনো আর্থিক সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। তিনি ধৈর্য ধরতে এবং বর্তমান অর্থবছরে নতুন কোনো ব্যয় না করে, বরং পরবর্তী অর্থবছরের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা তৈরির পক্ষে মত দেন। এই পদ্ধতি আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সারসংক্ষেপে, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বক্তব্য নতুন সরকারের আর্থিক নীতি গঠনে সতর্কতা, স্বচ্ছতা এবং পরিকল্পিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের চুক্তি ও ব্যয়ের পুনর্মূল্যায়ন, উত্তরণকালীন দল গঠন, এবং সময়মতো আর্থিক বিবৃতি উপস্থাপনের মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এই সুপারিশগুলো সরকারকে আর্থিক দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে জনসেবা উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments