অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার পরপর পরাজয়ের ফলে গ্রুপ পর্যায়েই টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে পড়ে। দুই ম্যাচের পরাজয় দলকে টেবিলে শেষ স্থানে রাখে এবং অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্যের ধারাকে শেষ করে। এই ফলাফল নিয়ে রিকি পন্টিং, যিনি অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণযুগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তার মতামত প্রকাশ করেছেন।
পন্টিং উল্লেখ করেন, এই ক্যাম্পেইনটি তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম মানের। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার দল কাগজে দেখে শক্তিশালী হলেও, ঐতিহ্যবাহী “আভা”র অভাব স্পষ্ট। এই আভা, যা পূর্বে অস্ট্রেলিয়াকে বড় টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে সাহায্য করত, এখন অনুপস্থিত।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্য অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ মানের খেলোয়াড় এবং অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদদের বড় মুহূর্তে নেতৃত্ব দিতে হবে। তবে বর্তমান অস্ট্রেলিয়ান স্কোয়াডে তা দেখা যায়নি। দলটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জয়ী হওয়ার ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে, যা গ্রুপ পর্যায়ে ত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি পর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনজুরি সমস্যার মুখোমুখি হয় দলটি। দ্রুতগতির পেসার জোশ হ্যাজলউড এবং প্রধান বোলার প্যাট কামিন্সের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়। তদুপরি, টিম ডেভিডও শুরুর ম্যাচে উপস্থিত হতে পারেননি, যা দলের ব্যাটিং গভীরতাকে প্রভাবিত করে। এই শূন্যস্থানগুলো দলকে পূর্ণ শক্তিতে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে বাধা দেয়।
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে হঠাৎ পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। পন্টিং উল্লেখ করেন, এই হারটি টুর্নামেন্টের দিকনির্দেশনা বদলে দেয় এবং দলকে তৎক্ষণাৎ বিশ্বকাপের শেষের দিকে নিয়ে যায়। জিম্বাবুয়ের জয়কে অস্ট্রেলিয়ার জন্য “বিশ্বকাপের শেষের মুহূর্ত” হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা পরবর্তী ম্যাচে মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া আবারও প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। পন্টিং স্বীকার করেন, শ্রীলঙ্কা ঘরে খেললে কঠিন প্রতিপক্ষ, এবং তারা অস্ট্রেলিয়ার ওপর একটি চমৎকার রানের চেজ সম্পন্ন করে। উচ্চ স্কোরের চেজটি সহজে অর্জনযোগ্য না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ইউনিটের দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্সকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য “মিসড সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পন্টিং জোর দিয়ে বলেন, টি২০ ফরম্যাটে মার্জিন খুবই পাতলা, এবং একটিমাত্র ভুল পরিকল্পনা পুরো টুর্নামেন্টের ফলাফল বদলে দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রীলঙ্কা ঘরে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে, জিম্বাবুয়ের অপ্রত্যাশিত জয়কে টুর্নামেন্টে সুযোগ হারানোর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
সারসংক্ষেপে, অস্ট্রেলিয়া এই টি২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ে বাদ পড়ার প্রধান কারণগুলোকে পন্টিং “আভা”র অভাব, মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুযোগের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে দলকে পুনরায় গঠন করতে এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পুনরায় শীর্ষে ফিরতে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের সমন্বয় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।



