স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন আজ একটি সভায় জানিয়েছেন যে, সরকার হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারের সেবা পর্যবেক্ষণের জন্য তৎক্ষণাৎ মাঠ পরিদর্শন শুরু করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রোগীর অভিযোগ কমানো এবং সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা লক্ষ্য।
সভা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারিয়েটের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ ও অধীনস্থ বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি কিছু হাসপাতাল থেকে ডিউটি ডাক্তারের অনুপস্থিতি ও সেবা মানের হ্রাস সম্পর্কে অভিযোগ উঠে আসা রোগীর উদ্বেগকে এই উদ্যোগের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল রোগীর সেবা মান উন্নত করা এবং হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
মন্ত্রীর মতে, সরকার রোগীর সেবা সর্বোচ্চ মানে রাখতে চায় এবং এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, হাসপাতালগুলোতে ডিউটি ডাক্তারের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত যাচাই করা হবে। এই নীতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বাস্থ্যসেবার সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
মন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তৎক্ষণাত্ পরিদর্শনের মাধ্যমে ডিউটি ডাক্তারের কাজের গুণগত মান নির্ণয় করা হবে এবং যেকোনো ধরণের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা দ্রুত সনাক্ত করা হবে। পরিদর্শনের ফলাফল সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হবে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এ ধরনের তদারকি সকল কর্মচারীর জন্য দায়িত্বশীলতা বাড়াবে এবং রোগীর স্বার্থ রক্ষা করবে।
ডাক্তারের সেবা সমানভাবে প্রদান নিশ্চিত করার জন্য কোনো চিকিৎসক সমিতি বা সিন্দিকেটকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে না, এ কথাও মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এতে করে কোনো চিকিৎসা সংস্থা বা সিন্দিকেটের প্রভাব কমে যাবে এবং রোগীর স্বার্থ প্রথম স্থানে থাকবে। সেবা সমতা নিশ্চিত করতে, সরকার সকল সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অগ্রাধিকার। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সমতা নিশ্চিত করে, দ্রুত পদক্ষেপে গুণগত মান বাড়ানো হবে। তদুপরি, তারা ডাক্তারের উপস্থিতি রেকর্ড, রোগীর ফিডব্যাক এবং সেবা মানের পরিসংখ্যান সংগ্রহের জন্য একটি সমন্বিত সিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মন্ত্রীর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং তদারকি প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মাসিক রিপোর্ট তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
গত সপ্তাহে মন্ত্রী একই বিষয়ে ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা আজকের তদারকি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা। এই ধারাবাহিকতা রোগীর অধিকার রক্ষা এবং সেবা মান উন্নয়নে সরকারের দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, তদারকি ব্যবস্থা রোগীর অপেক্ষার সময় কমাবে, সেবা মান বাড়াবে এবং হাসপাতালের কর্মপরিবেশে স্বচ্ছতা আনবে। তদুপরি, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে রোগীর সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা পুনর্নির্মাণ হবে।
তবে, তদারকি কার্যকর করতে পর্যাপ্ত manpower ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যা মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার। এই জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল টুলসের ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে পরিদর্শনের ফলাফল সঠিকভাবে রেকর্ড ও বিশ্লেষণ করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এই উদ্যোগ রোগীর অধিকার রক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রোগী ও তাদের পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এই তদারকি ব্যবস্থা সেবার গুণগত মান বাড়াবে এবং সকলের জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করবে। আপনার মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারেন।



