বাগেরহাটের ফকিরহাটে অবস্থিত বিশ্বরোড মোড়ে বৃহস্পতিবার বিকালে একটি কাভার্ডভ্যানের ধাকায় ২৫ বছর বয়সী হাফিজের প্রাণ ত্যাগ হয়। হাফিজ, বারাশিয়া গ্রাম থেকে তার বাড়ি ফেরার পথে, তার চালিত মোটরসাইকেল দিয়ে গতি বাড়িয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ফলে হাফিজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হাফিজ ফকিরহাট উপজেলার বারাশিয়া গ্রাম থেকে আসা, কাশেম আলীর পুত্র এবং স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তার পরিবার জানায়, তিনি নিয়মিতভাবে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। হাফিজের মৃত্যু তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় হাফিজ ফকিরহাট থেকে মাওয়া মহাসড়কের দিকে গিয়ে তার গন্তব্য গ্রাম বারাশিয়ায় যাচ্ছিলেন। একই সময়ে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরগামী একটি কাভার্ডভ্যান বিপরীত দিক থেকে আসছিল এবং বিশ্বরোড মোড়ে হাফিজের গাড়ির সামনে থেমে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে ধাক্কা খায়। গাড়ির ধাক্কা হাফিজের মাথা ও দেহে গুরুতর আঘাতের কারণ হয়, ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ মারা যান।
ফকিরহাট থানার উপ-পরিদর্শক মানিক রাজবংশী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্তের প্রাথমিক তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাফিজের গতি ও গাড়ির গতি উভয়ই যথাযথ সীমার মধ্যে ছিল, তবে কাভার্ডভ্যানের চালক হঠাৎ করে গতি কমিয়ে হাফিজের গাড়ির সামনে থেমে যাওয়ার ফলে সংঘর্ষ ঘটেছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তে কোনো অপ্রয়োজনীয় গতি বা অশোভন চালনা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ দল কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করে এবং চালকের পরিচয় যাচাই করে। জব্দকৃত গাড়ি থেকে রেকর্ডেড ডেটা ও ড্রাইভারের লাইসেন্সের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। চালককে স্থানীয় থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অধিক তদন্তে গাড়ির ব্রেক সিস্টেম, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং গাড়ি চালকের রেকর্ড পরীক্ষা করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির ড্রাইভারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নিরাপদ গতি বজায় না রাখার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া, হাফিজের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট-মাওয়া মহাসড়কে গত কয়েক বছর ধরে কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। রাস্তায় গাড়ি ও সাইকেল চালকদের মধ্যে পারস্পরিক সচেতনতা ও সঠিক দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন রাস্তায় গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং রোড সাইনেজ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, হেডলাইট ও সিগন্যাল ব্যবহার, এবং গাড়ি চালকের সতর্কতা অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দেন। এছাড়া, কাভার্ডভ্যানের মতো বড় গাড়ির চালকদের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাফিজের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। পরিবারকে মৃতের শেষকৃত্য সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
অধিক তদন্তের পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করতে পারে এবং আদালতে মামলার শুনানি হবে। আদালতে গাড়ি চালকের দায়িত্ব, গতি সীমা লঙ্ঘন এবং হাফিজের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হবে।
এই ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ে রাস্তায় নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



