মাগুরা-১ের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজের নির্বাচনী এলাকার মাগুরা শহরে ফিরে হাসপাতালে পরিদর্শন করেন। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা থেকে মাগুরা পৌঁছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাগুরা সদর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীর অবস্থা ও সেবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এই সফরটি শপথের পর তার প্রথম সরকারি কর্মসূচি হিসেবে ঘোষিত হয় এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় এমপি সরাসরি রোগীর কক্ষে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং সেবার গুণগত মান সম্পর্কে জানেন। রোগীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মাধ্যমে তিনি তাদের সমস্যার মূল বিষয়গুলো চিহ্নিত করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এই পর্যবেক্ষণ তাকে হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহে চলমান সমস্যার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মনোয়ার হোসেন খান তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য জরুরি নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তৎক্ষণাত্ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। বিদ্যুৎ ঘাটতি রোগীর সেবা ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এই বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি এমপি মাগুরা বাসীর জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব বলে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পর থেকে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ইতিমধ্যে কিছু কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে সেবার গতি ও গুণগত মানে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা তিনি সমাধানের জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
হাসপাতালের প্রশাসক ও কর্মীরা বিদ্যুৎ সমস্যার প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান যে, বিদ্যুৎ ঘাটতি রোগীর জরুরি সেবা প্রদানকে বাধাগ্রস্ত করে এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে কাজ না করলে রোগীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। কর্মীরা অতিরিক্ত কর্মী ও সম্পদ না থাকায় সমস্যার সমাধানে সীমাবদ্ধতা অনুভব করছেন, তবে তারা সরকারের সহায়তা পেলে দ্রুত উন্নতি সম্ভব বলে আশাবাদী।
মনোয়ার হোসেন খান এই চ্যালেঞ্জগুলোকে স্বীকার করে জনবল ঘাটতি দূর করার জন্য নতুন নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা চালু করার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্য কর্মী বৃদ্ধি এবং আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে রোগীর সেবা মানোন্নয়ন করা হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে অতিরিক্ত জেনারেটর ও ব্যাকআপ সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এমপি স্থানীয় স্বাস্থ্যের উন্নয়নকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে রাখার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন না হলে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা কঠিন হবে এবং জনগণের আস্থা হারাবে। তাই তিনি স্থানীয় স্বাস্থ্যের অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে সরকারী তহবিলের দ্রুত বরাদ্দের দাবি তোলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পরিদর্শনকে এমপির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তারা উল্লেখ করেন, শপথের পর দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের সমস্যায় হস্তক্ষেপ করা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি兑现 করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে তারা সতর্ক করেন যে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হলে জনসাধারণের অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং পরবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
মাগুরা সদর হাসপাতালের কর্মী ও রোগীর কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সমস্যার তাত্ক্ষণিক সমাধান রোগীর সেবা গুণগত মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনবে। এমপি জানান যে, সমস্যার সমাধান না হলে রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তাই তিনি ত্বরিত পদক্ষেপের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই পরিদর্শনের পর মনোয়ার হোসেন খান স্থানীয় স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আগামী সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ, জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা যায়। এই উদ্যোগগুলো মাগুরা বাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



