১৯ ফেব্রুয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ পরিবার কার্ডের বিতরণ শীঘ্রই শুরু হবে এবং ঈদ উৎসবের আগেই কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন। এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য নারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং পরিবারিক মঙ্গলের ভিত্তি দৃঢ় করা।
বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রত্যেক পরিবারের নারীর হাতে সরাসরি পৌঁছাবে, ফলে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা অতিরিক্ত স্তরের হস্তক্ষেপ থাকবে না। মন্ত্রীর মতে, এই সরাসরি পদ্ধতি তহবিলের দ্রুত প্রবাহ নিশ্চিত করবে এবং গৃহস্থালীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার সহজ করবে।
বর্তমানে চালু থাকা অন্যান্য ভাতা কার্ডগুলো বন্ধ হবে না; সেগুলো বিদ্যমান অবস্থায় চালু থাকবে এবং নতুন পরিবার কার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। এই সমন্বয় গৃহস্থালীর জন্য একাধিক সুবিধা একসাথে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং কোনো বিভ্রান্তি না রেখে সেবা প্রদানকে সহজ করবে।
পরিবার কার্ডে প্রদানযোগ্য অর্থের পরিমাণ পূর্বের যেকোনো ভাতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হবে বলে মন্ত্রীর বক্তব্য। এই বৃদ্ধি গৃহস্থালীর দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে অতিরিক্ত সহায়তা নিশ্চিত করবে এবং আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
বিতরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ রিপোর্ট প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করবে, যাতে বিতরণ প্রক্রিয়ার সকল দিক স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়।
মন্ত্রীর স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে এই স্কিমে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগী কোনো ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হবে না। ফলে বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গত হবে, যা জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা পূরণে কর্মী দলগুলোকে ত্বরান্বিত কাজের ধারা বজায় রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও লজিস্টিক্স নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত অগ্রগতি হয়।
বিতরণ প্রক্রিয়ায় বৈষম্যহীনতা ও বিতর্কমুক্ততা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নজর দেওয়া হবে। সকল পরিবারকে সমান শর্তে সুবিধা প্রদান করা এবং কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক পার্থক্য না রেখে কাজ করা এই উদ্যোগের মূল নীতি, যা সমতা ও ন্যায়বিচারকে ভিত্তি করে।
অন্যান্য ভাতা কার্ডের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নতুন পরিবার কার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এভাবে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষা বাড়বে এবং সামাজিক কল্যাণের পরিধি বিস্তৃত হবে।
মহিলা ক্ষমতায়ন ও আর্থিক স্বাবলম্বনকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পরিবার কার্ডকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সরাসরি নারীদের হাতে তহবিল পৌঁছানোর মাধ্যমে গৃহস্থালীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা শক্তিশালী হবে এবং পরিবারিক উন্নয়নে নতুন দিক উন্মোচিত হবে।
উপ-কমিটি তিন দিনের মধ্যে কতগুলো পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হবে এবং মোট কত টাকা বরাদ্দ করা হবে তা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে জানাবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিতরণ সূচি চূড়ান্ত করা হবে এবং জনগণের কাছে প্রকাশ করা হবে, যাতে প্রত্যেক গ্রাহক সময়মতো সেবা পেতে পারে।
পরিবার কার্ডের দ্রুত বাস্তবায়ন ও বিস্তৃত পরিসর গৃহস্থালীর আর্থিক চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে এবং দেশের সামাজিক কল্যাণ নীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছেন। এই উদ্যোগের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কল্যাণমূলক স্কিমের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।



