জামালপুরে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণের দায়ে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল‑১-এ বৃহস্পতিবার দুপুরে শোনানো হয়। বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিমের সমন্বয়ে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের তথ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক প্রদান করেন।
বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের প্রথম বিচারক, মামলায় উপস্থিত ছিলেন এবং রায়ে অপরাধীর অপরাধের গুরত্ব ও শিকারীর বয়স বিবেচনা করে কঠোর শাস্তি আরোপ করেন। ট্রাইবুনালটি বিশেষভাবে নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষার জন্য গঠিত, এবং এই রকম গুরুতর অপরাধে কঠোর দণ্ড প্রদান তার নীতি অনুযায়ী।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন আপেল মিয়া, যিনি মেলান্দহ উপজেলার বেলতৈল গ্রাম থেকে আসা আরজু মিয়ার পুত্র। তার বয়স ২৫ বছর এবং তিনি স্থানীয় সমাজে পরিচিত। অপরাধের সময় তিনি এবং তার সহযোদ্ধারা একসাথে কাজ করছিলেন, যা তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে।
অপরাধটি ঘটেছিল ২০২১ সালের ৭ মার্চ, যখন ১৬ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থী জেলা শহরের কলেজে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসে চড়ে চলছিল। আপেল মিয়া এবং তার সহকর্মীরা সেই মাইক্রোবাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর ওপর হিংসাত্মকভাবে আক্রমণ করে তাকে বাধা দিয়ে অপহরণ করে। শিকারের পরিবারকে জানানো হয়নি, এবং শিক্ষার্থীকে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
শিকারের বাবা ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও সাক্ষীর বিবরণ সংগ্রহ করে অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত করে। তদন্তের ফলস্বরূপ আপেল মিয়া এবং তার সহযোদ্ধাদের গ্রেফতার করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে আনা হয়।
ট্রাইবুনাল-১-এ রায় শোনার সময় বিচারক আপেল মিয়াকে সশ্রম জীবদ্দশা কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেন। জরিমানাটি অপরাধের গুরত্ব ও শিকারীর ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর শাস্তি অপরিহার্য।
আইনি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে, আপেল মিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত সাজা চূড়ান্ত রায় নয়; তিনি যদি আপিল করেন তবে উচ্চতর আদালতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা হতে পারে। তবে বর্তমান রায়ে উল্লেখিত শাস্তি এবং জরিমানার পরিমাণ ইতিমধ্যে কঠোর হিসেবে বিবেচিত। আদালত রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ফাইলগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন হলে তা দ্রুত নেওয়া যায়।
এই ধরনের অপরাধের প্রতিবেদন লেখার সময় শিকার ও তার পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে শিকারীর মানসিক আঘাত কমিয়ে আনা এবং সমাজে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে।



