24 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানহলি আইল্যান্ডে ৬৪‑বছরের নারী 'হাসি' আকৃতির প্রাচীন ক্রিনয়েডের ফসিল আবিষ্কার

হলি আইল্যান্ডে ৬৪‑বছরের নারী ‘হাসি’ আকৃতির প্রাচীন ক্রিনয়েডের ফসিল আবিষ্কার

৬৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিন ক্লার্ক, হোলি আইল্যান্ড, নর্থাম্বারল্যান্ডে বক্সিং ডে হাঁটতে গিয়ে একটি ছোট পাথরের ওপর অদ্ভুত হাসির মতো আকার লক্ষ্য করেন। তিনি তা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ফেসবুকের ফসিল শনাক্তকরণ গ্রুপে পোস্ট করেন এবং প্রচুর লাইক ও মন্তব্যের পর অন্যদের কাছ থেকে নিশ্চিতকরণ পান যে এটি প্রাচীন সমুদ্রজীবের অবশিষ্টাংশ। ক্লার্ক এবং তার স্বামী জেরার্ড প্রতি বছর নর্থাম্বারল্যান্ডে ছুটিতে যান এবং হোলি আইল্যান্ডে “কাড্ডির মণি” নামে পরিচিত ফসিল সংগ্রহের অভ্যাস রয়েছে।

হলি আইল্যান্ড, যার জনসংখ্যা প্রায় একশো পঞ্চাশ, দিনে দুবার সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং প্রাচীন ইংরেজি খ্রিস্টধর্মের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। এই দ্বীপে পাওয়া “মণি” আসলে ক্রিনয়েড নামের সমুদ্রজীবের কাণ্ডের ফসিল, যা সেন্ট কুথবের্টের নামে জনপ্রিয়। সেন্ট কুথবের্ট ৬৭০ দশকে মঠে প্রবেশ করেন, এখানে সমাধিস্থ হন এবং তার সমাধিস্থলে বহু অলৌকিক ঘটনার দাবি করা হয়।

ইংলিশ হেরিটেজের সংগ্রহ সংরক্ষণকারী ড. ফ্রান্সেস ম্যাকইন্টশের মতে, ১৩শ শতাব্দীতে স্থানীয় মানুষরা এই ছোট ফসিলগুলোকে কুথবের্টের আধ্যাত্মিক কাজের অংশ বলে বিশ্বাস করত এবং সেগুলো সংগ্রহের মাধ্যমে আত্মিক উন্নতি অর্জন করা সম্ভব বলে ধারণা করত। সেই সময়ে ক্রিনয়েডের প্রকৃত স্বভাব সম্পর্কে জ্ঞান ছিল না; মানুষগুলো এটিকে পবিত্র চিহ্ন হিসেবে গণ্য করত।

এই ঐতিহ্য আজও অব্যাহত রয়েছে, এবং গত বছর বক্সিং ডে-তে ক্লার্ক আবার মণি সংগ্রহে বেরিয়ে পড়েন। তবে তিনি সমুদ্রতটে পাথরের ভিড়ে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আকৃতির ফসিলের দিকে নজর দেন, যা তিনি হাসি মুখের মতো দেখেন এবং তা প্রথমবারের মতো দাঁতের মতো মনে হয়। তিনি তা নিয়ে হালকা মেজাজে মন্তব্য করেন যে এটি তার প্রথম দাঁত‑সদৃশ ফসিল।

ক্লার্কের পোস্টটি বিবিসি ও ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে (BGS) এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। BGS এর বিশ্লেষণে নিশ্চিত করা হয়েছে যে এই ফসিলটি ক্রিনয়েডের বড় অংশ, যা সাধারণত কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে এটি কেবল একটি অস্বাভাবিক পাথর নয়, বরং প্রাচীন সমুদ্রজীবের গুরুত্বপূর্ণ অবশিষ্টাংশ।

ক্রিনয়েড হল এমন এক সমুদ্রজীব যা ক্যামব্রিয়ান যুগে, অর্থাৎ ৫০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি আগে প্রথম উদ্ভব হয়। তারা পৃথিবীর প্রাচীনতম জটিল প্রাণীর মধ্যে একটি এবং আজও সমুদ্রের গভীরে কিছু প্রজাতি বেঁচে আছে। তাদের দেহে নমনীয় শাখা থাকে, যা পানিতে চলাচল ও খাবার সংগ্রহে সহায়তা করে।

এই নতুন ফসিলের আবিষ্কার স্থানীয় ফসিল সংগ্রহের ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ দেয় এবং ক্রিনয়েডের বিবর্তনীয় ইতিহাসে অতিরিক্ত তথ্য যোগ করে। বিজ্ঞানীরা আশা করেন যে আরও বিশদ গবেষণার মাধ্যমে এই ধরনের ফসিলের গঠন ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা যাবে।

হলি আইল্যান্ডের সমুদ্রতটে ঘুরে বেড়ানো এবং ফসিল অনুসন্ধান করা শুধু শখ নয়, বরং প্রাচীন পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার দরজা খুলে দেয়। আপনি যদি প্রাকৃতিক ইতিহাসে আগ্রহী হন, তবে এই ধরনের স্থানীয় ফসিল অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করা এবং ফলাফলকে বৈজ্ঞানিক সংস্থার সঙ্গে ভাগ করা একটি মূল্যবান পদক্ষেপ হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments