বৃহস্পতিবার, ব্রিটিশ মিডিয়ায় জানানো হয়েছে যে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর, যিনি পূর্বে প্রিন্স অ্যান্ড্রু নামে পরিচিত ছিলেন, পাবলিক অফিসে দায়িত্ব লঙ্ঘনের সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতারের সময় তিনি স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত উড ফার্মে উপস্থিত ছিলেন। এই ধরা পড়া তার সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত সংযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছে।
অ্যান্ড্রু, রাজা চার্লসের ছোট ভাই এবং প্রাক্তন রাণী এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মৃত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে তীব্র নজরে আছেন। এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রকাশের পর থেকে তার নাম বিভিন্ন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।
গ্রেফতারের সময়, উড ফার্মে ছয়টি অচিহ্নিত পুলিশ গাড়ি এবং প্রায় আটজন গোপনচর পুলিশ কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এই দলটি স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিশেষভাবে মোতায়েন করা হয়েছিল। উপস্থিতি স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
থেমস ভ্যালি পুলিশ পূর্বে জানিয়েছিল যে তারা এপস্টেইনকে গোপন সরকারী নথি সরবরাহের অভিযোগের তদন্তে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ফাইল প্রকাশের ভিত্তিতে, মাউন্টবাটেন-উইন্ডসরকে গোপন নথি এপস্টেইনের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সন্দেহ করা হচ্ছে। এই অভিযোগগুলো এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
অ্যান্ড্রু সবসময়ই এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কোনো অবৈধ কাজের অস্বীকার করেছেন এবং বন্ধুত্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সর্বশেষ নথি প্রকাশের পর থেকে তিনি কোনো মন্তব্য প্রদান করেননি। তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
পাবলিক অফিসে দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ ব্রিটিশ আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এতে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের সম্ভাবনা থাকে। গ্রেফতারের পর, সংশ্লিষ্ট আদালতে তার জমানত নির্ধারণ এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলাকালীন তাকে নির্দোষ বা দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
এই মামলাটি রাণী পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর চলমান তদন্তের ধারাকে আরও তীব্র করেছে। তবে, বর্তমান পর্যায়ে কেবলমাত্র গ্রেফতার এবং প্রাথমিক অভিযোগই প্রকাশিত হয়েছে। অতিরিক্ত তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।
অধিক তদন্তের জন্য থেমস ভ্যালি পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা একত্রে কাজ চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে আদালতে কী সিদ্ধান্ত হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



