করাচির সোলজার বাজারের গুল রানা কলোনিতে গ্যাসের বিস্ফোরণে একটি ত্রিস্তরী আবাসিক ভবনের অংশ ধসে পড়েছে। ভোরের সেহরির সময় ঘটিত এই দুর্ঘটনায় অন্তত ষোলো ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসা দল জানিয়েছে, আরও চৌদ্দজন আহত হয়েছে।
বিস্ফোরণটি রাতের প্রায় চারটায়, সেহরির প্রস্তুতির সময় ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট জামশেদ আশের জানান, ঘটনাস্থলে গ্যাস লিকের ফলে দ্বিতীয় তলায় তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা ভবনের কাঠামোকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে।
আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই তৎক্ষণাৎ করাচি সরকারি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি হয়। ডাঃ মোহাম্মদ সাবির মেমন উল্লেখ করেন, মৃতদেহের মধ্যে তেরজনের দেহ হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা করা হয়েছে, বাকি তিনজনের দেহ ঘটনাস্থলেই উদ্ধার করা হয়েছে।
রেসকিউ ১১২২ এর চিফ অপারেটিং অফিসার ডা. আবিদ জালালুদ্দিন জানান, গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে ভবনের একটি অংশ সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে, ফলে ত্রিস্তরী কাঠামোর ছোট ছোট ঘরগুলোতে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘরগুলো একক ব্যক্তির জন্যই তৈরি, যা নিরাপত্তা মানদণ্ডের বাইরে।
অধিকাংশ ঘরই অবৈধভাবে নির্মিত বলে অনুমান করা হচ্ছে। ছোট আকারের ঘরগুলোতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না থাকায়, গ্যাসের সঞ্চয় ও বিস্ফোরণ সহজে ঘটতে পারে। এই ধরনের অননুমোদিত নির্মাণের ফলে ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা বাড়ে, যা এই ধরণের দুঃখজনক ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।
মৃত্যুজনিত তালিকায় আটজন শিশু, চারজন নারী এবং চারজন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত। শিকারদের বয়স দুই থেকে ষাট বছরের মধ্যে বিস্তৃত, যেখানে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাতজন শিশু, বাকি সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক।
আহতদের অবস্থা গুরুতর থেকে মাঝারি পর্যন্ত বিভিন্ন রকম, বেশিরভাগই শ্বাসযন্ত্র ও চোটের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা দল দ্রুত রক্ত সঞ্চালন ও শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা প্রদান করছে, যাতে প্রাণহানি রোধ করা যায়।
বিস্ফোরণের পরপরই বৃহৎ সংখ্যক পুলিশ অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছে, নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার মাধ্যমে এলাকাটি আলাদা করে রেখেছে। তারা তল্লাশি ও উদ্ধার কাজের জন্য বিশেষ দল গঠন করে, যাতে বাকি কোনো শিকার বা আহত ব্যক্তি দ্রুত সনাক্ত করা যায়।
বিস্ফোরণের সময় ভবনে কতজন মানুষ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেহরির সময় অনেক পরিবার ঘরে সন্নিবেশিত থাকায়, সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে অতিরিক্ত সময় লাগবে। তদুপরি, ভবনের অবৈধ নির্মাণের কারণে সঠিক বাসিন্দা তালিকাও পাওয়া কঠিন।
অধিকাংশ তল্লাশি ও উদ্ধার কাজ এখনো চলমান। রেসকিউ ১১২২ ও স্থানীয় জরুরি সেবা দল একসাথে কাজ করে, ধসে পড়া অংশ থেকে বেঁচে থাকা যেকোনো ব্যক্তিকে বের করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে, গ্যাস লিকের মূল কারণ ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন তদন্তের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
অধিক তদন্তে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সংস্থা ও ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অবৈধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নোটিশ ও শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবনের নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃপর্যালোচনা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি বাড়ছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও মানবিক সংস্থা শোক প্রকাশের পাশাপাশি, ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে গ্যাস নিরাপত্তা ও অবৈধ নির্মাণের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।



