বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ) বৃহস্পতিবার এশীয় নারী কাপের জন্য ২৬ জনের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। দলটি শুক্রবার ভোরে অস্ট্রেলিয়ার পথে রওনা হবে, যেখানে এশিয়ার শীর্ষ স্তরের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
ইংরেজ কোচ পিটার বাটলার পূর্বে ২৯ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড প্রকাশ করে ছিলেন, যা ২৮ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান কোচ ক্যামেরন লর্ডের তত্ত্বাবধানে ১২ দিনের ফিটনেস ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করে। একই সময়ে বাটলার বাংলাদেশ নারী উ-১৯ দলের কোচিং দায়িত্বে ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সাফফ নারী উ-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রাথমিক ২৯ সদস্যের তালিকা থেকে সাতজন খেলোয়াড় পুনরায় নির্বাচিত হয়েছে: সিনহা জাহান শিকা, তোনিমা বিস্বাস, রুমা আক্তার, উম্মে কুলসুম, ফেরদৌস সোনালি, এয়ারিন আক্তার এবং সুরমা জান্নাত। নতুনভাবে চারজন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে সাওরোভি আফরিন, মুনকি আক্তার, আলপি আক্তার এবং সাউরাভি আখন্দা প্রিটি।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল সুইডেনের ভিত্তিক ফরোয়ার্ড অ্যানিকা রানিয়া সিদ্দিকের অন্তর্ভুক্তি, যাকে দলটি আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করবে। পাশাপাশি উ-১৯ দলের দুই তরুণী আলপি আক্তার ও সাউরাভি আখন্দা প্রিটিকেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা তরুণ প্রতিভার বিকাশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।
বিএফএফ অস্ট্রেলিয়ার পথে থাইল্যান্ডের সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের পরিকল্পনা করেছিল, তবে সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে ঐ ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে দলটি সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।
চূড়ান্ত স্কোয়াডের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে রূপনা চাকমা, মাইল আক্তার, স্বর্ণা রানি মণ্ডল, আফেইদা খানদকার, কোহাটি কিস্কু, নবিরান খাতুন, শেউলি আজিম, শামসুন্নার স্রি, হালিমা খাতুন, সুরোভি আক্তার আফরিন, সাপনা রানি, মুনকি আক্তার, এয়ারিন খাতুন, শাহেদা আক্তার রিপা, উমেহলা মারমা, রিতু পর্ণা চাকমা, মোনিকা চাকমা, মারিয়া মণ্ডল, অ্যানিকা রানিয়া সিদ্দিক, উননতি খাতুন, আলপি আক্তার, সাউরাভি আখন্দা প্রিটি, মোস্ট সুলতানা, তৌহরা খাতুন, মোস্ট সাগরিকা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সিনহা জাহান শিকা, তোনিমা বিস্বাস, রুমা আক্তার, উম্মে কুলসুম, ফেরদৌস সোনালি, এয়ারিন আক্তার, সুরমা জান্নাত, সাওরোভি আফরিন।
দলটি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে প্রথমে শারীরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে, এরপর এশীয় নারী কাপের গ্রুপ পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবে। কোচ বাটলার দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক মান বজায় রাখতে এবং দেশের ফুটবল উন্নয়নে নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
এই স্কোয়াডের গঠন এবং প্রস্তুতি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলটি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় প্রশিক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করে শেষ মুহূর্তের ট্যাকটিক্যাল সমন্বয় করবে, যাতে এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা যায়।



